ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে ‘অটো মামলা’, নজরে ১৪২৭ এআই ক্যামেরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১১:০১ পিএম

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করছে হাইওয়ে পুলিশ।

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চালানোসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় এটির উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
  
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যানবাহন চালনাসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যবস্থার আওতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্তপূর্বক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস’এর মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে।
 
মামলার তথ্য পাওয়ার পর আইন অমান্যকারী যানবাহনের মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। 

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে সংঘঠিত বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায়ের কার্যক্রম আরও দ্রুত, স্বচ্ছ, নির্ভুল ও কার্যকর করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থা মহাসড়কে ট্রাফিক আইন পালনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। হাইওয়ে পুলিশ এই বিষয়ে যাত্রী সাধারণ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সব অংশীজনের আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশা করে।

গত ১ আগস্ট কুমিল্লা সার্কিট হাউজে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ। সেখানে তিনি বলেন, চলতি মাসেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন রোধে বসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন এ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করা হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। মামলার তথ্য পাওয়ার পর যানবাহনের মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিকাশ, নগদসহ অনুমোদিত মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করা যাবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে গত ৭মে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টি মামলা করা হয়েছে। রাজধানীতে আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা ছিল। বর্তমানে মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে।

গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপদজনকভাবে লেন পরিবর্তন, চালক এবং আরোহী হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালনা, অবৈধ পার্কিং এবং যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করছে। এরপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা রুজু হয়।

এম