ডিএসইর কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও শেয়ার লেনদেনের তথ্য চেয়েছে বিএসইসি

  • আবদুল হাকিম | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন, শেয়ারবাজারে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, স্বার্থের সংঘাত ও নিয়ন্ত্রকীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ডিএসইর কাছে বিভিন্ন নথি, তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন। গত ১৬ আগস্ট ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে এসব তথ্য ও নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট জারি করা অনুসন্ধান আদেশের ভিত্তিতে ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রকীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পরিপালন, ব্যবসা ও শেয়ার লেনদেনসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতেই ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার সদস্য ১৪১-এর উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে লিখিত জবাব চেয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের ডিএসইর নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যবস্থাপনা চিঠি এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জানুয়ারি ২০২০ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ডিএসইর সব পরিচালনা পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী এবং গত পাঁচ বছর আগের ও বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর তথ্য চেয়েছে কমিশন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর
ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিশেষভাবে খতিয়ে দেখতে চেয়েছে বিএসইসি। জানুয়ারি ২০২৪ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) ও তার ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সব নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ নথি চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ও পরামর্শক নিয়োগের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।

এসব নথির মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রাপ্ত আবেদন, সাক্ষাৎকার বোর্ডের গঠন, প্রার্থীদের মূল্যায়ন বা মেধাতালিকা এবং নিয়োগ অনুমোদনের নোট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত তিন বছরে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের করপোরেট সুশাসন, নিয়োগ ও মানবসম্পদ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনও চেয়েছে কমিশন।

কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে
অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা ও সার্ভেইলেন্স বিভাগের কর্মকর্তাদের শেয়ারবাজারে লেনদেনের তথ্য চেয়েছে বিএসইসি।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, যোগদানের তারিখ এবং তাদের নামে থাকা বিও হিসাবের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। ডিএসইর কাছে তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের বিও হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ডিএসইর সার্ভেইলেন্স বিভাগের কর্মকর্তা, ক্যাজুয়াল কর্মী ও সহায়ক কর্মীদের নাম, পদবি, যোগদানের তারিখ, চাকরির মেয়াদ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, টিআইএন ও বিও হিসাবের তথ্য চেয়েছে কমিশন।

এসব কর্মকর্তার গত দুই বছরে দাখিল করা শেয়ার বা সিকিউরিটিজ ধারণ ও লেনদেনসংক্রান্ত ঘোষণার অনুলিপিও দিতে বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত শেয়ার লেনদেনের জন্য কোনো পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়ে থাকলে তার রেকর্ড এবং স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত ঘোষণাপত্রও চাওয়া হয়েছে।

ডিএসইর আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত নীতি, অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেনসংক্রান্ত নীতি এবং কর্মকর্তাদের ঘোষিত স্বার্থের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনার নেওয়া সিদ্ধান্তের রেকর্ড চেয়েছে বিএসইসি।

পাশাপাশি ডিএসইর আরএসি, আরএডি এবং মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটির কার্যপরিধি, বর্তমান সদস্যদের তালিকা এবং জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এসব কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক পদ, পরামর্শক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগসংক্রান্ত নথি চেয়েছে কমিশন।

এ ছাড়া ডিএসইর অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা নীতি, শীর্ষ কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকারনামা, হুইসেলব্লোয়ার বা অভিযোগ নিষ্পত্তি নীতি এবং গত দুই বছরে পাওয়া অভিযোগের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

নথি মুছে ফেলা বা পরিবর্তনে নিষেধাজ্ঞা
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সব নথি ও ই-মেইল যোগাযোগ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব রেকর্ড পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা ওভাররাইট না করার জন্য ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও তথ্য চাওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা এএসএম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে ডিএসইর কাছে আরও নথি ও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।

এএইচ/এম