আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ শুক্রবার (৩০ আগস্ট)। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বব্যাপী গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি গুম হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গুম হওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে গৃহীত হয়। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ শীর্ষক সম্মেলনের আন্তর্জাতিক সনদে ৩০ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সামগ্রিকভাবে এই সনদের লক্ষ্য গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া। 

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের অভিযোগ নিয়ে গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সমালোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলের বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর আর হদিস নেই—এমন আড়াই শ অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের গুমের ঘটনাও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, আড়াই শ অভিযোগ তদন্তের জন্য গুম বিশেষজ্ঞ পাঁচজন তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্তদল গঠন করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম নিজে এই তদন্তদলের তত্ত্বাবধান করছেন। আগামী মাসের (সেপ্টেম্বর) মধ্যে তদন্ত শেষ করে ট্রাইব্যুনালে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিলের চেষ্টায় আছে প্রসিকিউশন। 

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলা বিচারাধীন।

আড়াই শ গুম গুম অভিযোগের (মিস কেস বা বিবিধ মামলা) মামলাটি নিয়ে তদন্ত পর্যায়ে আছে ১১টি মামলা। অচিরেই এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়।
 
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। এর মধ্যে ৯২টি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনা হয়।

সম্পূর্ণ নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয় ৩৮টি। আর পূর্ববর্তী আইন রহিত করে তিনটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই বছর ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে তিনবার সংশোধন আনে অন্তর্বর্তী সরকার। তিনটি সংশোধনই অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়, যা পরে আইনে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে প্রথম সংশোধন এনে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

এদিকে, আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গুম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আজ শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।

এম