ঢাকা: পুলিশের এএসপি তানিয়া সুলতানা ইভার শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই কর্মকর্তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী এবং ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা নায়েব আলী জোয়ার্দারের আপন ভাতিজি। আগস্ট আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা জোনে দায়িত্ব পালনকালে ছাত্র-জনতা হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এবং পুলিশ সদস্যরা তার অতিউৎসাহী ভূমিকার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রথমে ১৩ আগস্ট তার ছুটি নামঞ্জুর করা হলে পরে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর তদবিরে ২০ আগস্ট তার ছুটি মঞ্জুর করা হয়। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তার এই ছুটি আটকে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ইতালির রোমের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টুরিজম স্ট্রাটেজি, কালচারাল হেরিটেজ এবং মেইড ইন ইতালি বিষয়ে পড়ালেখা করার জন্য আবেদন করেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা এএসপি তানিয়া সুলতানা ইভা। গত ১৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের -১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে তার শিক্ষাছুটি/প্রেষণ নামঞ্জুর করা হয়।
এরপর এই কর্মকর্তাকে শিক্ষা ছুটি দিতে সরকারের প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী জোর তদবির শুরু করেন। অবশেষে ৭ দিন পর ২০ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তার ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
জানতে চাইলে সেই প্রভাবশালী মন্ত্রী তদবিরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তার চাচা স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি এবং আমার রাজনৈতিক প্রধান প্রতিপক্ষ। তার পক্ষে তদবির করার প্রশ্নই আসেনা।
এই তথ্য ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স গ্রুপে এ সংক্রান্ত একটি পোষ্টে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, পুলিশের শৃঙ্খলা এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে ভেতরে ভেতরে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেই তাদের এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে জমা পড়েছে অত্যন্ত গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
অভিযোগের তির ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা এএসপি তানিয়া সুলতানা ইভার দিকে। পলাতক পুলিশ কর্মকর্তা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে তার গোপন যোগাযোগ, তথ্য পাচার এবং দেশত্যাগের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে!
জানা যায়, এএসপি তানিয়া সুলতানা ইভা ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক এমপি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা নায়েব আলী জোয়ার্দারের আপন ভাতিজি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রলীগের একজন প্রভাবশালী নেত্রী ছিলেন। তার স্বামী এএসপি নাহিদ ফেরদৌসও একই ব্যাচের কর্মকর্তা।
জুলাই আগস্ট আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা জোনে দায়িত্ব পালনকালে ছাত্র-জনতা (বিশেষ করে পুলিশ সদস্যের ছেলে তাঈন) হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এবং বিভিন্ন পুলিশ সদস্য তার অতিউৎসাহী ভূমিকার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার চলছে। কিন্তু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তিনি অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে তুরস্কে বা ইউরোপের অন্য কোথাও অবস্থান করছেন।
এর বাইরেও রয়েছে আরও ভয়ংকর অভিযোগ। পলাতক এসবি প্রধান মনিরুল, হাবিবুর রহমান, ডিবি হারুনদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ‘জয়যাত্রা’ নামক একটি গোপন গ্রুপ চলছে স্বামী নাহিদ ফেরদৌসের তত্ত্বাবধানে।
অভিযোগ রয়েছে, এই অনলাইন নেটওয়ার্কে স্বয়ং পলাতক শেখ হাসিনাও যুক্ত হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির নির্দেশনা দিচ্ছেন! এসবি তে ইমিগ্রেশন শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ইভা সাবেক এসবি প্রধান পলাতক মনিরুল ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
৫ আগস্টের পর পুলিশের নানা গোপন নথি এবং কে কোথায় কী নির্দেশনা দিচ্ছেন তার সব তথ্য তিনি নিজে সংগ্রহ করে পলাতক মনিরুল ও ডিবি হারুনদের কাছে পাচার করেছেন।
২০২৫ সালের জুনে ইভা দিল্লিতে গিয়ে পলাতক শেখ হাসিনা, মনিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানের সাথে গোপন বৈঠক করেন বলে জানা যায়। এরপর দেশে ফিরেই তিনি সহকর্মীদের মাঝে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দেওয়া এবং “আওয়ামী লীগ ফিরলে চাকরি থাকবে না” বলে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন।
এমনকি, ইভা তার ব্যাচমেটদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রেপ্তার ও পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের (যেমন- এএসপি রাজন, ইমরুল, নাহিদ) আইনি ও অন্যান্য সহায়তার জন্য ৪ কিস্তিতে ২০ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলেছেন!
পিএস