ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বরের শেষভাগে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে এই নির্বাচন উৎসব। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইসি সূত্র জানায়, ১৫ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে এবং আগামী বছরের শেষ নাগাদ সব ইউপির ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে।
গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা পেয়েই ইসির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। দেশে মোট চার হাজার ৫৮আইটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে, যেগুলোতে ২০২১ ও ২০২২ সালে ভোট হয়েছিল। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে উপযুক্ত হবে। আইনের বিধান অনুযায়ী মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে এই সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।
ইসি কর্মকর্তা এবং কমিশনারদের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপে বরিশাল বিভাগের চার জেলাসহ রংপুর, বগুড়া, খুলনা ও বাগেরহাটের ৩৬৭টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আগের নিয়মে ছয় বা সাত ধাপেই এই ভোট হবে, তবে আইনি বা সীমানা জটিলতা থাকা ইউপিগুলো এর বাইরে থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, নভেম্বরে ভোট আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণ বিধিমালা ও আইন সংস্কারের খসড়া ইতিমধ্যে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর ভোটার স্থানান্তরের আবেদন এবং ১০ সেপ্টেম্বর তা নিষ্পত্তির পর চূড়াান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণে যাবে, যেখানে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন।
সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এবার কেন্দ্র সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার বাড়তে পারে। গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টির বেশি কেন্দ্র রাখা হতে পারে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বরের আগেই শেষ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে স্কুল ভবন ও শিক্ষকদের কেন্দ্রে ব্যবহার করা যায়।
ভোটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন পুলিশ প্রধানের কাছে সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন চেয়েছেন। তবে এবারের স্থানীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা ইসির নেই।
সংসদ নির্বাচনের সময়ই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন-স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, মার্কিং সিল, অফিসিয়াল সিল ও নানা ধরনের ব্যাগ কিনে মজুত রাখা হয়েছিল। ফলে কারিগরি ও বস্তুগত দিক থেকেও নির্বাচন কমিশন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
এসএইচ