‍‍`আত্মা ভেঙে যায়, যখন দেখি সন্তানরা…‍‍`

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি

বাবা-মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়ে পরে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর মতো অমানবিক ঘটনা ঠেকাতে সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। তবে বিলটির কিছু বিধান মুসলিম শরিয়া আইনের ‘হেবা’ বা দান বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলীয় নেতারা। 

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ইসলাম ধর্মে পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও তাদের প্রতি সম্মান দেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানরা বাবা-মায়ের সম্পত্তি দখলে নেওয়ার পর তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন।

তিনি বলেন, অনেক সন্তান বাবা-মায়ের সম্পত্তি চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের নামে লিখিয়ে নেন। পরে তারা বড় বড় ভবনে বসবাস করলেও সেই বাবা-মায়ের ঠাঁই হয় ভবনের ছোট কোনো অংশে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের বাড়িতেও জায়গা না পেয়ে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়।

রুমিন ফারহানা এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিলটি সংসদে আনার জন্য আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিলটিতে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণে অবহেলা বা নির্যাতন করা হলে দান বা হেবা বাতিলের একতরফা অধিকার দাতাকে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।

রুমিনের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সন্তান বাবা-মাকে অবহেলা বা নির্যাতন করলে দাতা যেন এককভাবে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের জন্য পারিবারিক আদালতে আবেদন করার সুযোগ পান, সেই ব্যবস্থা আইনে থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া সন্তান যেন বাবা-মায়ের লিখে দেওয়া সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নিতে না পারে এবং সেই ঋণের দায় যাতে বাবা-মায়ের ওপর না পড়ে, সে বিষয়েও স্পষ্ট বিধান রাখার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দাতার জীবদ্দশায় তার লিখে দেওয়া সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ কিংবা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

বাবা-মায়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে দ্রুত বিচারব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেন রুমিন ফারহানা। তাঁর মতে, জেলা জজ আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির দ্রুত ব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব দেন তিনি।

রুমিন ফারহানার মতে, নতুন আইনটি বাবা-মায়ের সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্তানদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মুসলিমদের হেবা বিধানসহ বিদ্যমান আইনের সঙ্গে যাতে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও আইন প্রণয়নের সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এম