সারের কৃত্রিম সংকটে দিশেহারা কৃষক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১২:২১ পিএম
ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন মৌসুমে সার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। সরকারি খাতা ও কৃষি বিভাগের হিসাবে সারের কোনো সংকট নেই বলা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কোথাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে, কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার মিলছে না। আবার অনেক জায়গায় গুদামে সার থাকা সত্ত্বেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পর্যাপ্ত মজুত ও বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু যশোরের রাহেলাপুর বা মাগুরার মঘির মতো প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন।

তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে সার চাইলে ডিলাররা 'সার নেই' বলে সাফ জানিয়ে দেন। কিন্তু বস্তাপ্রতি বাড়তি টাকা দিলেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত সার। দিনাজপুরের পুলহাট ও লালমনিরহাটের কৃষকরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অনেকে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে খুচরা বাজার থেকে চড়া দামে সার কিনছেন।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু অসাধু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা যোগসাজশ করে গুদামে সার জমিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। ময়মনসিংহের নান্দাইল, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও জামালপুরের মাদারগঞ্জে সার পাচার এবং সরকারি নিয়ম না মেনে বেশি দামে বিক্রির একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। 

অনেক এলাকায় বিসিআইসি ডিলাররা বরাদ্দের পুরো সার উত্তোলন না করে কিংবা তুলে দোকানে না এনে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছেন। যদিও প্রশাসনিক অভিযানে কোথাও কোথাও জরিমানা করা হচ্ছে, তবে তা অসাধু চক্রকে থামানোর জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না।

কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, কৃষকদের কাছে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নজরদারিতে এবং কিছু এলাকায় টোকেন পদ্ধতিতে সার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড় এবং টিএসপির মতো নির্দিষ্ট কিছু সারের উচ্চ চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অসাধু চক্র ফায়দা লুটছে। দ্রুত এই কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

এসএইচ