স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি। 

[275591]

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে দাঁড়ানোর জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই। ইউপি চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানোর জন্যও কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র, কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর-সমস্ত পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বা প্রয়োজন নেই।

মীর শাহে আলম বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে আপনাদের মধ্যে একটি প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের লোকাল গভর্নমেন্ট আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রে বা পরিষদে বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বজনীন পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি অযোগ্য হবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালাকে এক জায়গায় করে এটি ঠিক করবে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এরপরও যদি নির্বাচন কমিশনের আইনগত কোনো মতামতের প্রয়োজন হয়, অথবা বিষয়টি আরও বিস্তারিত জানার প্রয়োজন হয় কিংবা কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আমরা আবার আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপি হওয়ার ক্ষেত্রে তো শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমি এমপি হয়েছি, আমার তো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয়নি ফর্মে। কারণ আইনে নেই, সংবিধানেও নেই। যেহেতু সংসদ সদস্যদের যোগ্যতার প্রশ্নে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, লোকাল গভর্নমেন্টের যে পাঁচটি আইন আমরা করেছি, সেখানেও আমরা এটি রাখিনি।

কারণ এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হয়ে যেতে পারে। একজন সমাজসেবক হয়ত লেখাপড়া নাও করতে পারেন। তিনি স্বশিক্ষিত হতে পারেন। ফরমালি যে লেখাপড়া, অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন মানুষ শিক্ষিত হতে পারেন। অথবা কোনোদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়েও তার মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান থাকতে পারে। তার মধ্যে যদি জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা থাকে, তাহলে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, এই কারণে সাংবিধানিকভাবে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা স্থানীয় সরকারের এই পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখিনি।

এসআই