জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে বাজারজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিবহন ব্যয় সামান্য বাড়লেও খুচরা বাজারে চাল, ডিম, আটা, ময়দাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কয়েক গুণ বেশি হারে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মীরা।
গত এক-দেড় মাস ধরে চড়া থাকা আটা ও ময়দার দাম চলতি সপ্তাহে আরেক দফায় কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ও ময়দার দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে যথাক্রমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় ঠেকেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলোর নির্ধারিত নতুন মূল্যের কারণে গায়ের দরেই পণ্যগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
আটা-ময়দার পর এবার নতুন করে চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে চাল পরিবহনে ট্রাক ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। হিসাব করে দেখা যায়, পরিবহন ভাড়ার দরুন প্রতি কেজি চালে খরচ বেড়েছে মাত্র ২৭ পয়সা। তবে ব্যবসায়ীরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, খুচরা বাজারে পয়সার হিসাব না থাকায় কেজিপ্রতি দাম এক টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। শুধু চাল নয়, বরিশাল থেকে আনা মুড়ির ক্ষেত্রেও কেজিপ্রতি বাড়তি এক টাকা পরিবহন খরচ যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারে এর দাম দ্বিগুণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন পাইকাররা।
একইভাবে প্রভাব পড়েছে ডিম ও অন্যান্য নিত্যপণ্যে। পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৬০ টাকা এবং এক হালি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়লেও বাজার মিলছে না চাহিদামতো। ডিলাররা দাম আরও বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে এবং আমদানি করা আপেল, মালটা ও কমলার কেজি ৩৪০ থেকে ৪৫০ টাকার ঘরে গিয়ে ঠেকেছে।
বাজারের এই বিশৃঙ্খলা রুখতে অসাধু ব্যবসায়ীদের মনগড়া দাম বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে প্রতি কেজি পণ্যে ঠিক কত পয়সা পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, তা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের দ্রুত বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করা উচিত। এতে সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার তদারকি করতে পারবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার-সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবহন ভাড়ার অজুহাতে সুযোগ বুঝে অতি মুনাফা করার কোনো সুযোগ অসাধু ব্যবসায়ীদের দেওয়া হবে না। পরিবহন ভাড়া কত বেড়েছে এবং খুচরা বাজারে তার কতটুকু প্রভাব পড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে মাঠ পর্যায়ে বাজার তদারকি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এসএইচ