বিগত ১৭ বছরে যারা বাংলাদেশে গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে, সেই আওয়ামী রাজনৈতিক শক্তিকে আর কোনোদিন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধোলাইখাল সংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে কোনো ধরনের স্বৈরাচারের স্থান হতে পারে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও সাবেক নেতাদের ফেরানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে ফেরত চেয়েছে। বিচারের মুখোমুখি করতে পলাতক আসামিদের ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতি আবারও বিনীত আহ্বান জানান তিনি।
রাজনীতিতে ব্যক্তি কেন্দ্রিক স্লোগান পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। এখন থেকে স্লোগান হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে মর্যাদা দেওয়ার।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কাজের চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাপক জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত এই সরকার যখন সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতন্ত্র সুসংহত করার কাজ করছে, তখন একটি নির্দিষ্ট দল মাত্র সাত মাসের মাথায় সরকার পতনের হুংকার দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল ইতোমধ্যে বুঝে ফেলেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই নাগরিক সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ