‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন ডিটেনশনের প্রস্তাব পুলিশের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি

৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার বন্ধ থাকায় অপরাধীরা আগের মতো পুলিশকে ভয় পাচ্ছে না-পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের মর্নিং মিটিংয়ে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে শক্ত হাতে অপরাধ দমনে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে সুসংগঠিত বা স্ট্রিমলাইনিং করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে এই মর্নিং মিটিং এবং মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা (ক্রাইম কনফারেন্স) অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম) এবং ডিআইজি (প্রশাসন)-সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা।

সভায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন আলোচিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ সেন্টারে হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, ইসিবি চত্বরসংলগ্ন এলাকায় সশস্ত্র হামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজার প্রিজনভ্যান থেকে পলায়ন, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা, মিরপুরে বাসে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে জমিসংক্রান্ত বড় বড় সংঘর্ষ।

আইনি বাধ্যবাধকতা ও আসামিদের দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে সভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বা বিচারকার্য শেষ না হওয়ায় আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অপরাধীদের ঢালাওভাবে আটক না করে সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিটেনশন দেওয়ার প্রস্তাব দেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। 

সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনও ডিটেনশনকে একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে মত দেন। এছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ডিজি পদে পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ উঠে আসে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অপরাধও বাড়ছে। হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ফারুক আহমেদ পুরোনো প্রথার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ দেন। নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি প্রধান করিম আসামি গ্রেফতারের পর দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বাহিনীর ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করার তাগিদ দিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, আড়াই লাখের বেশি সদস্যের এই বিশাল বাহিনীতে বিভিন্ন গুঞ্জন ও প্রচারের কারণে প্রভাব পড়ছে। আকস্মিক কোনো অলৌকিক পরিবর্তন না এসে ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রয়াসের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে সুসংগঠিত করতে হবে।

ক্রাইম কনফারেন্সে আইজিপি আলী হোসেন সভাপতিত্ব না করলেও পরবর্তীতে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। এছাড়া কিশোর অপরাধ ও গুজব প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

এসএইচ