দাম বাড়িয়েও সিন্ডিকেটের কবজায় এলপিজি, ব্যর্থতা কার?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ফাইল ছবি

বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারিভাবে এলপিজি আমদানির নির্দেশ দেওয়া হলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির ব্যর্থতার কারণে গত সাত মাসে এক কেজি এলপিজিও আমদানি করা সম্ভব হয়নি। পাঁচ দফা দরপত্র ডেকেও কোনো সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে পারেনি সংস্থাটি। ফলে বেসরকারি খাতের সিন্ডিকেট একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং জনগণের পকেট থেকে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিলেও বিপিসির অদক্ষতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া প্রতি টন ২০০ ডলার থাকলেও সরবরাহকারীরা ২৭০ ডলার দাবি করেন।

অন্যদিকে দেশের বেসরকারি আমদানিকারকরা ঠিকই টনপ্রতি ২০০ টাকা জাহাজভাড়া দিয়ে এলপিজি আমদানি করেছেন। বিপিসি দরকষাকষি করতে ব্যর্থ হওয়ায় বেসরকারি সিন্ডিকেট পুরো বাজার জিম্মি করে রেখেছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাঁচবার টেন্ডার ডেকেও অস্বাভাবিক প্রিমিয়াম দাবির কারণে কোনো কোম্পানিকে এলপিজি সরবরাহের কাজ দেওয়া যায়নি। এখন বিপিসি আরও বড় সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এলপিজি আমদানির চেষ্টা করছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা একে বিপিসির পরিকল্পিত ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় স্পিড মার্কেটিং করপোরেশন নামের একটি অখ্যাত কোম্পানিকে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির কাজ দেওয়া হলেও তা এখনো আসেনি। কোম্পানিটি টনপ্রতি ৯৭ ডলার ফ্রেইড চার্জের প্রস্তাব দিলেও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এত কম দামের প্রস্তাব গ্রহণ করে কেবল সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।

দেশে প্রতিবছর ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। যার ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ সরবরাহ করে বেসরকারি খাত এবং মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ সরকারি খাত। ওমেরা, পেট্রোমেক্স, মেঘনা এবং যমুনা স্পেসটেকের মতো মাত্র কয়েকটি কোম্পানি বাজারের ৬৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করছে। সরকারিভাবে মজুত সক্ষমতা বাড়াতে মোংলা ও টাঙ্গাইলে ট্যাংক ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

এসএইচ