জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ এখনো নিজস্ব জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। অনুমোদিত ১০৬টি পদের বিপরীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কাজ ও দর্শনার্থীদের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে বিকল্প উপায়ে। জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আউটসোর্সিং কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়েই পরিচালিত হচ্ছে ঢাকার নতুন এই দর্শনীয় স্থানের সার্বিক কার্যক্রম।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ও সেবাভিত্তিক ঘাটতি পূরণে আউটসোর্সিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ৮২ জন আউটসোর্সিং কর্মীর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৬ জন কাজে যোগ দিয়েছেন এবং অবশিষ্ট ৩৬ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ ধাপে রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রেষণে এখানে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন স্কাউট সদস্য ও গবেষণা দলের স্বেচ্ছাসেবীও নানা কাজে সহায়তা করছেন।
প্রারম্ভিক ধাপে জনবল সংকটের কারণে দর্শনার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং গ্যালারিগুলোতে চলাচলের শৃঙ্খলায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছিল। তবে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট রুটিন ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দর্শনার্থী সেবা আগের চেয়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল করা হয়েছে। পুরো জাদুঘর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
স্মৃতি জাদুঘরটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের আগ্রহ ও উপস্থিতি। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ৬ থেকে ৭ হাজার এবং শনিবার ৪ থেকে ৫ হাজার দর্শনার্থী গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে এখানে আসছেন। সাধারণ কর্মদিবসগুলোতেও গড়ে প্রায় দুই হাজার মানুষের আগমন ঘটছে। ইতিহাসকে সচক্ষে দেখতে এবং নতুন প্রজন্মকে আন্দোলনের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ধারণা দিতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আসছেন অনেকেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের পরিচালক সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান, স্থায়ী জনবল নিয়োগের জন্য ১০৬টি পদ অনুমোদিত হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব দ্রুতই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন হলে এবং প্রদর্শিত নিদর্শনগুলোর বিস্তারিত ঐতিহাসিক পটভূমি যুক্ত করা গেলে জাদুঘরটি আরও সমৃদ্ধ ও দর্শনার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
এসএইচ