আগামী নতুন বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে কে আসবেন তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংগঠনের ভেতরে-বাইরে কৌতূহল তীব্র। দীর্ঘ ছাত্রত্বের পর কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম নতুন বছর থেকেই পদত্যাগ করতে চান। সেই প্রেক্ষাপটে আগামী ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ২০২৫। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের সম্মেলন থেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী দেশব্যাপী সদস্যদের সরাসরি গোপন ভোটের মাধ্যমে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত সভাপতি এরপর একজনকে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত করবেন। এবারের সভাপতি দৌড় নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এবং কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। শিবিরের ঐতিহ্য অনুসারে সেক্রেটারি জেনারেলই সাধারণত কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে নির্বাচিত হন।
ছাত্রশিবিরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৫০ বছরে ৩৩জন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের মধ্যে ৩০ জনই পূর্ববর্তী সেশনে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জন্য জাহিদুল ইসলাম সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন।
ছাত্রশিবিরের সংবিধানের ১৩ ও ১৪ নম্বর ধারায় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া বর্ণিত। এতে বলা হয়েছে, সভাপতি সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। যদি কোনো কারণে পদ শূন্য হয়, কার্যকরী পরিষদ থেকে সাময়িকভাবে একজনকে কেন্দ্রীয় সভাপতি করা যাবে এবং পরে সদস্যদের ভোটে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচন হবে।
কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ২৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় অর্থসহ কুরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। প্রথম অধিবেশন শেষে দেশ-বিদেশের অতিথিদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বেলা ১টায় সমাপ্ত হবে। সমাপনী অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচন ও সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া-মুনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলন সমাপ্ত হবে।
নেতারা মনে করছেন, ২০২৫ সালের এই সম্মেলন ছাত্রশিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্বকে দেশের তরুণ প্রজন্মের দিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি সংগঠনটির রাজনৈতিক প্রভাব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাকে সুসংহত করা নতুন কমিটির প্রধান লক্ষ্য হবে।
এসএইচ