মানুষ ভোট দিলেও জয় ঘরে তুলতে পারেনি জামায়াত

  • সাজ্জাদ হোসাইন | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ফাইল ছবি

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক আসনে জয় পায়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের হিসেবে উপস্থিতি থাকলেও সেটিকে আসনভিত্তিক জয়ে রূপ দিতে না পারাই ছিল দলটির বড় সীমাবদ্ধতা। এজন্য অল্প ভোটের ব্যবধানে অধিকাংশ আজন জয় লাভ করেছে বিএনপি।

একাধিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সব ভোটকেন্দ্রে কার্যকর মনিটরিং করতে পারেনি জামায়াত ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। অনেক কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পোলিং এজেন্ট ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধি না থাকায় ভোট গণনা ও ফলাফল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ঘাটতি থেকে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তুলনামূলকভাবে জনশক্তির ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সংগঠন, বুথ ব্যবস্থাপনা ও ভোটার আনা–নেওয়ার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতায় দলটি পিছিয়ে ছিল বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থায়ী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় ভোটের দিন মাঠ দখলে রাখতে পারেনি তারা। অন্যদিকে একছত্র আধিপত্য ছিল বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের।

এ ছাড়া প্রার্থীদের ব্যক্তিগত এলাকায় পরিচিতি ও জনসম্পৃক্ততার ঘাটতির কথাও আলোচনায় এসেছে। অনেক প্রার্থী আদর্শভিত্তিক ভোট পেলেও স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের জোর কম থাকায় তা আসনভিত্তিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রূপ নেয়নি। স্থানীয় ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততার অভাবও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ভোটের আগের দিন বিভিন্ন ইস্যুতে যে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা প্রচারণা হয়েছে, তার কার্যকর জবাব সংগঠিতভাবে দিতে না পারাও একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে কিছু এলাকায় দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারদের আস্থা টানতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহবুব আলম নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, তিনি ও তাঁর এলাকার অধিকাংশ মানুষ জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এত সমর্থন থাকার পরও দলটি সেই ভোটকে জয়ে রূপ দিতে পারেনি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রশিবিরের শক্তি ঐতিহ্যগতভাবে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক। তবে সেই শক্তিকে এলাকা বা ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রভাব বিস্তারে পুরোপুরি রূপান্তর করা যায়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের সংগঠিত কাঠামো মাঠের নির্বাচনী যুদ্ধে একইভাবে কার্যকর হয়নি।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, একটি সম্ভাব্য জনজোয়ার তৈরি হলেও তা কৌশলগত ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে কাজে লাগাতে পারেনি জামায়াত। ভোটের হিসেবে উপস্থিতি থাকলেও আসনকেন্দ্রিক জয় নিশ্চিত করার মতো সমন্বিত প্রস্তুতি ও কাঠামোগত শক্তি না থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল পায়নি দলটি।

এসএইচ