বিএনপির দুর্গে যেসব কারণে মঞ্জুর বড় পরাজয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ফাইল ছবি

বিএনপির দীর্ঘদিনের ‘অভেদ্য দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ এবার নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। নব্বই-পরবর্তী চারটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে টানা জয় পাওয়া দলটি এবার প্রথমবারের মতো আসনটি হারিয়েছে, আর বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মাঠের রাজনীতিতে তিন দশকের বেশি সময় সক্রিয় বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে জয় পান জামায়াতের মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এ পরাজয়ের পেছনে বড় কারণ ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, দুর্বল মাঠপর্যায়ের প্রচারণা এবং দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল।

অতীতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে এ আসন ছিল বিএনপির দখলে। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়েও মঞ্জু জয় ধরে রেখেছিলেন। তবে এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক একমুখী হবে-এমন ধারণা থেকেই বিএনপি শিবিরে আত্মতুষ্টি তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রার্থী ঘোষণার পর প্রথম দিকে মঞ্জুকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি, ডোর-টু-ডোর প্রচারণাও ছিল সীমিত। বিপরীতে হেলাল পরিকল্পিতভাবে পাড়া-মহল্লায় সংগঠিত প্রচার চালান। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনার উদ্যোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। যেখানে বিএনপির প্রচারণা মূল সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক ছিল, জামায়াত সেখানে অলিগলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

দলীয় কোন্দলও বিএনপির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। নির্বাচনের আগে ঐক্যের ছবি দেখা গেলেও বাস্তবে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়ে যায়, যার প্রভাব ভোটে স্পষ্ট হয়। দলের একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন, সবাই একসঙ্গে মাঠে নামেননি।

এই সুযোগেই সংগঠিতভাবে ভোটের মাঠ গুছিয়ে নেয় জামায়াত। ছোট ইউনিটভিত্তিক প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বিশ্লেষণ-এই কৌশলই তাদের জয়ের পথ সহজ করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

ফলাফল ঘোষণার পর আসনটিতে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জামায়াত এখন এ এলাকাকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে রূপ দিতে সংগঠিতভাবে কাজ শুরু করেছে, আর বিএনপি হারার কারণ খুঁজতে শুরু করেছে গভীর পর্যালোচনা।

এসএইচ