ডামি বিরোধী দল নয়, অর্থবহ সংসদ চায় জামায়াত: আমির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে। তারা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চান না; বরং সংসদকে অর্থবহ ও জনগণের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) দলটির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ কখনো এক চাকায় চলে না; এটি সচল রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল-উভয় চাকারই প্রয়োজন। সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। অতীতের মতো ডামি বিরোধী দল হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। সরকারের সঠিক পদক্ষেপে সমর্থন থাকবে, তবে কোনো অসঙ্গত সিদ্ধান্ত এলে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংসদের একটি সেকেন্ডও যেন কারো চরিত্র হননের পেছনে নষ্ট না হয়। বরং এটি হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব কালো আইন রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর মতো আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতির জন্য একটি কালো দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। এ দিন বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একটি সাজানো রায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাজপথে নামলে তৎকালীন সরকার নির্বিচারে গুলি চালায় এবং একদিনে ৭০ জন ও এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৪ জন নিহত হন বলেও অভিযোগ করেন।

সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীসহ দলের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ২৪-এর ফ্যাসিবাদ যেভাবে বিদায় নেবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। ছাত্রসমাজ ও জুলাইয়ের যোদ্ধাদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি শহীদদের জন্য দোয়া এবং আহতদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা জানান।

বক্তব্যে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ২০১৩ সালের ঘটনাকে তিনি গণহত্যা আখ্যা দিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন উল্লেখ করে তার সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রমজান তাকওয়া বা খোদাভীতির শিক্ষা দেয়। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তার হাতে জনগণের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। এই শিক্ষা ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতা, বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ