বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আসছে পরিবর্তন, যে কৌশলে এবারের উদ্যোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

দীর্ঘদিন পর সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। প্রায় এক দশক ধরে জাতীয় কাউন্সিল না হওয়ায় দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—স্থায়ী কমিটিতে তৈরি হয়েছে শূন্যতা ও কার্যক্রমে ধীরগতি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কাউন্সিলকে সামনে রেখে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা-র পর বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ বিরতিতে সাংগঠনিক কাঠামোয় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।

বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। মৃত্যু, অসুস্থতা, অবসর ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে কার্যকর সদস্যসংখ্যা কমে গেছে। এতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জটিলতা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে দলটি স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণে সক্রিয় হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান কমিটির কিছু পরিবর্তনও আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। নেতৃত্বের এই পুনর্বিন্যাসে অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সক্রিয় রাজনীতিকদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা চলছে।

দলীয় অভ্যন্তরে ইতোমধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা এবং যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় একাধিক পরিচিত মুখ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কারা জায়গা পাবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ও দল—উভয় ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিএনপি নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটি শুধু সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

সবমিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কাউন্সিল বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে কারা জায়গা করে নেন এবং সেই পরিবর্তন দলীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।

এম