ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন এক বিরল রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের সাক্ষী হলো। শনিবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এক অনবদ্য ভাষণ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। তার দেশপ্রেম ও পরমতসহিষ্ণুতার বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে সরকারি এবং বিরোধী দল-উভয় পক্ষের সদস্যরা একযোগে টেবিল চাপড়ে তাকে সমর্থন জানান।
বক্তব্যের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা পারস্পরিক সম্মান, সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে এক হয়ে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাম্প্রতিক দুটি বিদেশ সফরকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ দুটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সবসময় সরকারের পাশে থাকবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
দেশের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ। তৈরি পোশাক শিল্প ও রেমিট্যান্সের ওপর পুরো চাপ না দিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। একই সাথে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিদেশের সাথে সম্পাদিত সব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি। তার স্পষ্ট বার্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে, যেখানে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ চলবে না।
সংসদকে সব রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির তাগিদ দেন। বক্তব্যের শেষ প্রান্তে এসে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও সরকারের সফলতা কামনা করে উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান তিনি। রাজনীতির চিরচেনা কাদা ছোড়াছুড়ি পেরিয়ে সংসদে এই উদার ও ইতিবাচক অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন আশার আলো দেখালো।
এসএইচ