বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বিশিষ্ট জাতীয় নেতা মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জামালপুর সমিতি, ঢাকা এই সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জামালপুর সমিতির সহ-সভাপতি এডভোকেট মুজিবুর রহমান। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি মরহুম নেতার আইন পেশা ও সামাজিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন এবং প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের স্মৃতি স্মরণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম সহযোদ্ধা হিসেবে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজপথের সংগ্রামের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতা, উচ্চ শিক্ষা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধের জন্য তিনি জনমনে এক স্বতন্ত্র অবস্থানে সমাসীন। অনুষ্ঠানে তাঁর সার্বিক রাজনীতি, অর্জন ও মানবীয় দিক নিয়ে নির্মোহ আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই, কিন্তু নীতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের বড় অভাব। ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন তেমনই একজন বিরল রাজনীতিবিদ, যিনি ক্ষমতার ভেতরে থেকেও বিনয়ী থাকতে জেনেছেন এবং দলকে সুসংগঠিত রাখতে নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েছেন। নব্বইয়ের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও প্রতিপক্ষের প্রতি তাঁর সৌজন্যবোধ আজকের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মরহুমের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, জামালপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার কেবল জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে তিনি এক বটবৃক্ষের মতো ছিলেন, যার ছায়াতলে থেকে দেশপ্রেম ও রাজনীতির আসল পাঠ গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে মাটির কাছাকাছি থাকা যায় এবং মানুষের মন জয় করা যায়, তা সালাম তালুকদার দেখিয়ে গেছেন।
সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জামালপুর সমিতির মহাসচিব ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার শুধু একজন সফল রাজনীতিবিদ বা দক্ষ আইনজ্ঞ ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত উঁচুমাপের একজন মানবিক মানুষ। ক্ষমতা ও পদের বহু ঊর্ধ্বে ছিল তাঁর উদার হৃদয়, যেখানে সাধারণ মানুষের কল্যাণের চিন্তাই ছিল সর্বাগ্রে। জামালপুরের মাটি ও মানুষের উন্নয়ন এবং যেকোনো সামাজিক ও চিকিৎসাসেবামূলক উদ্যোগে তাঁর অবদান অপরিসীম।
অনুষ্ঠানে জামালপুর সমিতি, ঢাকার সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবীবসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ