রাজনৈতিক নেতাদের হাতেই যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির শীর্ষ পদে আবারও ফিরছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া এই নিয়ম অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করলেও, নতুন করে তা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালার একটি খসড়া নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনুমোদন দিলেই এই নিয়ম চূড়ান্ত রূপ পাবে।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার এক সংশোধনী এনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই নিয়মে কেবল সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং চার বছর মেয়াদি ডিগ্রিধারী পেশাজীবীদেরই সভাপতি পদের যোগ্য ধরা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

নতুন খসড়ায় অন্য পেশাজীবীদের সুযোগ রাখা হলেও বাস্তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাম এলে তাদেরই প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও রাজনৈতিক প্রভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে নতুন প্রস্তাবনায় কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে সভাপতি হতে হলে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষমতার দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য ভাঙতে একজন ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি একই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।

পরবর্তী সময়ে আবার দায়িত্ব পেতে চাইলে অন্তত এক মেয়াদের বিরতি নিতে হবে। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি একসঙ্গে তিনটির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ আঁকড়ে রাখতে পারবেন না।

শর্ত ও নিয়মকানুন যা-ই থাকুক না কেন, স্থানীয় নেতাদের হাতে কমিটির নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কতটুকু শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। ক্ষমতার বলয় তৈরি নাকি শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন-শেষ পর্যন্ত কোন নীতি বাস্তবে টিকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এসএইচ