বিএনপিতে হাইব্রিডের দাপট, হতাশায় ত্যাগীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
ফাইল ছবি

দীর্ঘ দেড় যুগের রাজপথের লড়াই, মামলা-হামলা আর গ্রেপ্তারের পর দল ক্ষমতায় ফিরলেও আড়ালেই রয়ে যাচ্ছেন বিএনপির অনেক পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তৃণমূলের রাজপথ কাঁপানো অনেক নেতাই এখন নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছেন। সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতার আশপাশে থাকা নতুন মুখ এবং বিত্তশালীদের প্রভাব বাড়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে দলটির বিভিন্ন স্তরে।

তৃণমূলের অসন্তোষ কেবল পদ-পদবি না পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত, উন্নয়নকাজ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমেও দুর্দিনের নেতাদের পাশ কাটিয়ে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্মীদের দাবি, বছরের পর বছর পালিয়ে থাকা, জেল খাটা কিংবা রাজপথে মার খাওয়া ইতিহাসকে গুরুত্ব না দিয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও আর্থিক সুবিধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নজরে এসেছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদেরও। সম্প্রতি বরিশালে অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক সভায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। গত ১৭ বছর যারা মামলা, গুম ও নির্যাতন সহ্য করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের ত্যাগের সর্বোচ্চ মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে দলটির উচ্চপর্যায় থেকে।

এদিকে দলীয় নাম ব্যবহার করে দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বেশ কিছু ঘটনায় বিতর্কিতদের দায়িত্ব থেকে সরানো এবং অনুসন্ধানের উদ্যোগও দেখা গেছে। তবুও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশ্ন, মুখের ঘোষণার বাইরে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর প্রভাব ঠেকাতে কেন্দ্রীয় পদক্ষেপগুলো কতটা দৃশ্যমান ও কার্যকর হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসার পর সরকার ও দলের মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। একদিকে নতুন সুবিধাভোগী বলয় নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে দুঃসময়ের কর্মীদের মান-অভিমান গুছিয়ে যোগ্য সম্মান দেওয়া। ফিল্টারিং বা ছাঁকন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৃণমূলের ত্যাগীদের কতটা পুনর্মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সংগঠনটির ভেতরের ভবিষ্যৎ ঐক্য।

এসএইচ