ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
একই সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অপসারণসহ সুনির্দিষ্ট নয়টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে পেশ করেছে দলটি। জামায়াত নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই নির্বাচনকে কোনোভাবেই যেন ১৯৯৪ সালের বিতর্কিত ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচনে রূপান্তর করা না হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৈঠকে সহকারী সেক্রটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ ছয় সদস্যের জামায়াত প্রতিনিধিদল, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোট ও জামায়াতের প্রার্থী হলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ধানের শীষের মির্জা ফয়সল আমিন।
জামায়াতের একটি পর্যবেক্ষক দল সম্প্রতি সরেজমিনে নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করে তথ্যাদি সংগ্রহ করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সরকারি দলের ক্ষমতার প্রভাবে মাঠে চরম পক্ষপাতিত্ব চলছে এবং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন নিজেদের অসহায় সমর্পণ করছে বলে তারা গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
ইসির কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে জামায়াত উল্লেখ করে, সদর উপজেলার ইউএনও খাইরুল ইসলাম সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থীর পক্ষে মধ্যরাতে বৈঠক করা, আর্থিক লেনদেনের সুযোগ করে দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষের প্রচার চালানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এসব প্রমাণের ভিডিও ও আলোকচিত্র ইসিতে জমা দিয়ে তাঁকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীদের ওপর হামলা, মসজিদের ভেতর সোফা সেট করে নির্বাচনী সভা করা এবং সাদাকালো নিয়মের তোয়াক্কা না করে রঙিন প্রতীকের ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় এক লাখ ৬৮ হাজার ভোটারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে বেআইনিভাবে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ভোটারদের সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
পুলিশের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীত ইতিহাস বলে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় নেতা বা মন্ত্রীদের নির্দেশ অমান্য করতে পারেন না। সে জন্য নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সেখানে নিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মোতায়েন করা জরুরি।
কমিশন কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ ও আশঙ্কিত হলেও এখনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না বলে জানান। কমিশন যদি প্রশাসনিক সাহসিকতা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ না করে, তবে আগামীতে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দেয় জামায়াত প্রতিনিধিদল।
এসএইচ