আওয়ামী ছোবল থেকে দেশ বাঁচাতে শহীদ ওসমান হাদির পথ জামায়াত ও এনসিপি অনুসরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, যদি তারা সেটি না করতে পারে, তবে ধরেই নিতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিক স্বার্থে তারা শহীদ ওসমান হাদিকে বেচা-বিক্রি করে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। রাশেদ খাঁন লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে জামায়াত-এনসিপি শহীদ ওসমান হাদির আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা থেকে যোজন যোজন দূরে।
তিনি বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি টানা তিন মাস রাজপথে পাহারা দেওয়ার বিকল্প নেই। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দীর্ঘ সময় ঘাপটি মেরে থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং যেকোনো সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলেই সেখানে তারা ছোবল দেওয়ার অপচেষ্টা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে মজুরি বোর্ড। সেখানে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কারও একার পক্ষে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও নাহিদ ইসলাম আন্দোলনকে উস্কে দিতে শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান করেছেন। তিনি লিখেছেন, অতীতে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ জামায়াত ভূত দেখতো, এখন বিএনপি আওয়ামী লীগ ভূত দেখছে।
তিনি আরও লেখেন, এর মধ্য দিয়ে নাহিদ ইসলাম শ্রমিকবেশে আন্দোলনে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের অংশগ্রহণকে সমর্থন জুগিয়েছেন। তিনি কি তাহলে আন্দোলনের নামে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের সৃষ্ট সেই অরাজকতা, জ্বালাও-পোড়াও, হামলা ও ভাঙচুরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে?
রাশেদ খাঁন লেখেন, বেশ কিছুদিন আগে আমি বলেছিলাম, দুটি বিরোধী দলের অপতৎপরতা সামলিয়ে বিএনপি সরকারকে দেশ চালাতে হচ্ছে। সেই কথা আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। রাজপথে যতবারই আওয়ামী দুর্বৃত্তরা অরাজকতা সৃষ্টি করতে আসবে, সেটা শুধু বিএনপিকেই মোকাবিলা করতে হবে, ফ্যাসিবাদ দমনে জামায়াত-এনসিপিকে আর কখনোই পাশে পাওয়া যাবে না। বরং দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জামায়াত-এনসিপি এখন ক্ষমতায় যাওয়ার মোহে পতিত ফ্যাসিস্ট অপশক্তির সঙ্গে তালমিলিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় অসহযোগিতা করতে থাকবে।
সবশেষে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, নাহিদ ইসলামের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কাজে ফিরতে শুরু করেছে গার্মেন্টস কর্মীরা।
এসএইচ