গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিচেই চলছে টিকাদান, শিশু ও মায়েদের ভোগান্তি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরদিন সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির গেটে টেবিল-চেয়ার পেতে হামসহ শিশুদের নিয়মিত টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় প্রচণ্ড রোদ ও ভোগান্তির মধ্যেই বাধ্য হয়ে ছোট সন্তানদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন মায়েরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে ফেলা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে টানানো ত্রিপলের নিচে বিভিন্ন বয়সী শিশুকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন অভিভাবকেরা। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরিবেশ না থাকায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শিশুরা।

কান্নাকাটি আর ধুলাবালির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও। হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও শিশুদের সুরক্ষায় এই বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাড্ডা কর্তৃপক্ষ। 

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, ভবনের ওপর হামলা চালিয়ে সব গুঁড়িয়ে দেওয়ায় অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে সরকারের পূর্বঘোষিত হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং এলাকার শিশুরা সুরক্ষিত থাকে, তাই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও রাস্তায় বসেই সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রতিষ্ঠানের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে ঐতিহ্যবাহী এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে দেড় দুইশত লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভবনে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষীদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়।

পরে ভারি যন্ত্রপাতি এনে পাকা ও আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার মূল কারিগরদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসএইচ