বদলে গেছে মিরপুর-১০, দুই যুগ পর স্বস্তিতে ফুটপাতে হাঁটছেন নগরবাসী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পড়ন্ত বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন শরীফুল ইসলাম। দুই হাতে ধরা সন্তানদের ছোট্ট হাত। প্রায় ২০ বছর ধরে মিরপুরে বসবাস করলেও এমন অভিজ্ঞতা তার জীবনে এই প্রথম। দীর্ঘদিনের চেনা ফুটপাত এখন পুরোপুরি দখলমুক্ত। স্বস্তির এই অনুভূতি এখন কেবল শরীফুল ইসলামের একা নয়, পুরো মিরপুরবাসীর।

একসময় যে ফুটপাতে পা ফেলার জায়গা ছিল না, সেখানে এখন নির্বিঘ্নে হাঁটছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও প্রবীণরা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের পর গোলচত্বর ও হোপ স্কুল রোডের ফুটপাত এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা ও পরিচ্ছন্ন। অবৈধ দখল হটিয়ে গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচে গাছ লাগিয়ে নান্দনিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কয়েক দিন আগেও চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সড়ক ও ফুটপাতের দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছিল অবৈধ মার্কেট। হকারদের হাঁকডাক, যানজট আর পকেটমারের ভয়ে এই পথ পার হওয়াই ছিল কঠিন এক পরীক্ষা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের চালানো অভিযানে দৃশ্যপট বদলে যায়। এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

ফুটপাত উচ্ছেদের এই উদ্যোগ পুরো উত্তর সিটি কর্পোরেশনজুড়ে বজায় রাখার কথা জানিয়েছে ডিএনসিসি প্রশাসন। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, নগরবাসীকে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে হকারদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক ফাঁকা ও দখলমুক্ত হওয়ায় সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি সুফল পাচ্ছেন যানবাহনের চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতের অবৈধ দোকান উঠে যাওয়ায় স্থায়ী মার্কেটগুলোতে কেনাবেচা বেড়েছে।

অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের ওপরও কাজের চাপ অনেকটাই কমেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এখন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে যাতায়াত করতে পারছেন। দীর্ঘ ভোগান্তির পর মিরপুর-১০ নম্বরে ফিরে আসা এই পরিচ্ছন্ন রূপ পুরো নগরজুড়েই দেখতে চান ঢাকাবাসী। তথ্য সূত্র: বাসস

এসএইচ