ঢাকার দুর্ভোগ কমাতে ৭১৪ কোটির মেগা প্রকল্প

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ছবি: এআই তৈরি

ভাঙাচোরা সড়ক, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা আর ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাতের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। এসব সমস্যা সমাধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত সংস্কার এবং উন্নয়নে ৭১৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রধান সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাতের সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ডিএসসিসি।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৪ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৪৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যার মধ্যে ঋণ ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা এবং অনুদান ১৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাকি ২১৪ কোটি ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সিটি করপোরেশন তার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগাবে।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, শাহজাহানপুর, লালবাগ, বংশাল, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল থানা এলাকায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ প্রকল্পের আওতায় ২৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক, ৪৯ কিলোমিটার নর্দমা এবং ৪৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া পাঁচ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়কের আইল্যান্ড বা মধ্যবর্তী বিভাজক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির সিংহভাগই খরচ হবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদারে। নর্দমা উন্নয়নে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৯৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি সড়ক উন্নয়নে ১৪১ কোটি ২৭ লাখ, ফুটপাতে ৪৬ কোটি ছয় লাখ এবং সড়ক বিভাজক সংস্কারে দুই কোটি সাত লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পটি একনেকে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় এটি অনুমোদনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ