সন্তানের মেধা ও জ্ঞান বৃদ্ধিতে নবীজির শেখানো বিশেষ দোয়া

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ছবি: প্রতীকী

প্রতিটি মা-বাবারই স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তান বড় হয়ে মেধাবী, সুশিক্ষিত ও সঠিক দ্বীনি জ্ঞানের অধিকারী হোক। সন্তানের মেধা বিকাশ ও প্রজ্ঞার জন্য ইসলামে রয়েছে দারুণ এক শিক্ষা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর এক খুদে সাহাবীর জন্য এমন একটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে উম্মতের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীতে পরিণত করেছিল।

ইতিহাসের সেই বিখ্যাত ঘটনাটি ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে কেন্দ্র করে। তিনি তখন বেশ ছোট। একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য নিজের উদ্যোগে অজুর পানি প্রস্তুত করে রাখেন। নবীজি (সা.) অজুর পানি দেখে অত্যন্ত খুশি হন এবং তাঁর জন্য বরকতের দোয়া করেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাতে খালা উম্মুল মুমিনীন হজরত মায়মুনা (রা.)-এর ঘরে থাকা অবস্থায় অজুর পানি গুছিয়ে রাখায় রাসুল (সা.) এই দোয়াটি করেছিলেন।

সেই বরকতময় দোয়াটি হলো- ‘আল্লাহুম্মা ফাক্কিহ্‌হু ফিদ্দীন, ওয়া আল্লিমহুত তা’বিল।’ এর সহজ অর্থ, ‘হে আল্লাহ, আপনি তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং তাকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন।’ হাদিস শরীফে দোয়ার প্রথম অংশটি সহিহ বুখারিতে এবং পুরো অংশটি মুসনাদে আহমাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া বুখারির আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজি (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বুকে জড়িয়ে ধরে ‘আল্লাহুম্মা আল্লিমহুল হিকমাহ’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ, তাকে প্রজ্ঞা শিক্ষা দিন’ বলে দোয়া করেছিলেন।

এই দোয়ার বরকতে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) অসাধারণ মেধা ও প্রজ্ঞার অধিকারী হন। অল্প বয়সেই তাঁর জ্ঞানের গভীরতা দেখে খলিফা হজরত ওমর (রা.) তাঁকে প্রবীণ সাহাবীদের মজলিসে সম্মানজনক স্থান দিতেন। পরবর্তীতে তিনি ‘উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত’ ও ‘মুফাসসিরদের সরদার’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, অভিভাবকেরা নিয়মিত সন্তানের জন্য এই দোয়া করতে পারেন। তবে কেবল দোয়া নয়, সঠিক লালন-পালন ও সুশিক্ষার সমন্বয়েই আল্লাহ তাআলা সন্তানকে মেধা ও মর্যাদায় উন্নত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সুন্নাহ অনুসরণ করে সন্তানের মেধা বিকাশে দোয়া করা প্রত্যেক মা-বাবার জন্য একটি উত্তম আমল।

এসএইচ