দুই দফায় তালাক দিয়েও স্ত্রী দাবি করছেন মুফতি মিসবাহ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ফাইল ছবি

দ্বিতীয় স্ত্রী নাইমা জান্নাতকে দুই দফায় দুই তালাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ। তবে তার দাবি, দ্বিতীয় তালাক দেওয়ার পরও শরিয়ত অনুযায়ী ওই নারী এখনো তার বৈধ স্ত্রী আছেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দ্বিতীয় বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে মুফতি মিসবাহ বলেন, তিনি ছাত্রজামানায় পারিবারিকভাবে প্রথম বিয়ে করেছিলেন, যা বেশি দিন টেকেনি এবং পরবর্তীতে পারিবারিকভাবেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সেই স্ত্রী এখনো আছেন। তিনি দাবি করেন, শরীয়তের দিক থেকে বা রাষ্ট্রীয় দিক থেকে তার কোনো অপরাধ নেই এবং তিনি ইচ্ছে করলেই কাউকে ছেড়ে দেননি।

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরিস্থিতি নিয়ে মিসবাহ জানান, এত কিছুর পরও তিনি তাকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে বড় বড় ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক মধ্যস্থতা বৈঠকও হয়েছিল। সেখানে সবাই সংসার না ভাঙার অনুরোধ করলেও ওই নারী কোনোভাবেই আর সংসারে থাকতে চাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, মূলত সম্মানহানি ও চরিত্রহরণের জন্যই তার পারিবারিক বিষয়গুলো মানুষের সামনে এনে তাকে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় স্ত্রীকে দুই দফায় তালাক দেওয়ার বিষয়ে মুফতি মিসবাহ বলেন, নাইমা জান্নাতকে তিনি দুইবারে দুটি তালাক দিয়েছেন। অনেক আগে একবার এক তালাক দিয়েছিলেন এবং সম্প্রতি আরেকটি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, শরিয়তসম্মতভাবে ওই নারী এখনো তার স্ত্রী আছেন এবং তাকে শেষ তালাক দেওয়ার আগে তিনি অন্য স্বামীর ঘরে যেতে পারবেন না।

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আগের স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের ঘরে আনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো প্রমাণ বা নথি নেই। বরং ওই নারী নিজেই তার আগের স্বামীকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। মিসবাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ওই নারীর নানা, মামা ও খালুরা মিলে তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন।

বিয়ের পেছনের পরিস্থিতি তুলে ধরে এই ইসলামি বক্তা বলেন, ওই নারীর অতীতের একটি চারিত্রিক বিষয় জানার পর তিনি প্রথমে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তখন তিনি ভিডিও কলে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেন। এছাড়া তার সাবেক স্বামীর করা একটি মামলার বিষয়টিও সামনে আসে। মিসবাহ দাবি করেন, তাকে বিয়ে না করলে ওই নারী আগের স্বামীর ঘরে ফিরে গিয়ে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে ক্যারিয়ার ধ্বংস করবেন বলে ব্ল্যাকমেইল করেছিলেন। এরপর পারিবারিকভাবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন।

এসএইচ