উদ্ভাবনী চিন্তা বাড়াতে ইলহাম ইসলামিক স্কুলে ‘সাইন্স ফেয়ার’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ফাইল ছবি

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে রাজধানীর ইলহাম ইসলামিক স্কুলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইলহাম সাইন্স ফেয়ার-২০২৬’।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ইলহাম ইসলামিক স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিজ্ঞানমেলায় স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি নানা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প, মডেল ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় জ্ঞান, কৌতূহল ও সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলহাম ইসলামিক স্কুলের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল এএফএম নুরুদ্দিন (অব.), সভাপতি ওবায়দুল্লাহ তারেক, ভাইস চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ, সিইও রমজান আলী, প্রধান শিক্ষক হারুন উর রশিদ এবং স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও অভিভাবকবৃন্দ।

বিজ্ঞানমেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়ে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে, পর্যবেক্ষণ করতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের চিন্তা করতে উৎসাহিত করা।

মেলার বিভিন্ন স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি প্রকল্প প্রদর্শন করে। তারা দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের প্রকল্পের কার্যপ্রণালী, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বাস্তব জীবনে এর সম্ভাব্য প্রয়োগ তুলে ধরে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেরাই প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ পরিচালনা ও ব্যাখ্যা করায় তাদের আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনা দক্ষতাও ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার আগ্রহের প্রশংসা করেন তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতি ওবায়দুল্লাহ তারেক বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত করাই আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাই তারা চিন্তা করতে শিখুক, প্রশ্ন করতে শিখুক এবং নিজেদের মেধা দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করুক। বিজ্ঞানমেলার মতো আয়োজন সেই সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

 “শ্রেণিকক্ষে শেখা বিষয় যখন একজন শিক্ষার্থী নিজের হাতে প্রয়োগ করে একটি প্রকল্প তৈরি করে, তখন তার শেখাটা আরও গভীর ও আনন্দময় হয়। ইলহাম সাইন্স ফেয়ারের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারুন উর রশিদ বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা তৈরি হয় তার কৌতূহল থেকে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু তথ্য মুখস্থ করবে না; বরং কোনো সমস্যাকে কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হয় এবং তার নতুন সমাধান কীভাবে খুঁজে বের করতে হয়, সেটিও শিখবে।”
অভিভাবকদের অভিমত

বিজ্ঞানমেলায় সন্তানদের অংশগ্রহণ ও নিজেদের হাতে তৈরি প্রকল্প উপস্থাপনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু বিজ্ঞান শেখায় না, বরং তাদের চিন্তা করার, প্রশ্ন করার, নিজের ধারণা বাস্তবে প্রয়োগ করার এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তা উপস্থাপন করার সুযোগ করে দেয়।**

দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থীর  অভিভাবক আফরোজা আক্তার বলেন, “আমরা সাধারণত সন্তানদের বই পড়তে ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেখি। কিন্তু আজ তাদের নিজেদের তৈরি প্রকল্প নিয়ে এত আগ্রহের সঙ্গে কথা বলতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এ ধরনের আয়োজন তাদের শেখার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াবে।”

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল বলেন, “বিজ্ঞানকে আনন্দের সঙ্গে শেখার এমন সুযোগ শিশুদের জন্য খুবই প্রয়োজন। নিজেরা কিছু তৈরি করার মাধ্যমে তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তা শুধু বই পড়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। ইলহাম ইসলামিক স্কুলের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”

অভিভাবকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা মনে করেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ইলহাম সাইন্স ফেয়ার-২০২৬-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই কৌতূহল ও সৃজনশীলতাকে আরও উৎসাহিত করার প্রয়াসই দেখা গেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে ইলহাম ইসলামিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে।

এসএইচ