টেস্টে বাংলাদেশের করুণ দশা দেখে হতাশ নির্বাচক

  • ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৪, ১০:১৩ এএম

ঢাকা: মধুচন্দ্রিমার পর্ব ওয়ানডে সিরিজেই শেষ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজের দল যদিও মিনহাজুল আবেদীনের নির্বাচক কমিটি করে দিয়ে গেছে, এই দুই দলেই গাজী আশরাফ হোসেনের নতুন নির্বাচক কমিটির আনা দুটো সিদ্ধান্ত বেশ প্রশংসিত হয়েছে। 

টি-টোয়েন্টি দল জাকের আলীকে ডাকা এবং তৃতীয় ওয়ানডের দল থেকে লিটন দাসকে বাদ দেওয়া।

সেই হাততালির রেশ মিলিয়ে না যেতেই শুরু হয়ে গেল টেস্ট সিরিজ। গাজী আশরাফ হোসেনের নির্বাচক কমিটি ঘোষিত দল দুই সিরিজেই হলো চরম ব্যর্থ। দায়টা অবশ্যই নির্বাচক কমিটির নয়, তবে তাদের নির্বাচিত দল কেন দুই টেস্টেই এত খারাপ খেলল, সেই প্রশ্নের উত্তর অন্তত তাদের জানাটা জরুরি।

এ নিয়ে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও দুটো টেস্টে আমরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারিনি। চট্টগ্রামের উইকেট অত ভাঙে না। অথচ সেখানেই এক বোলিং ছাড়া বাকি দুই বিভাগে আমরা প্রত্যাশার কাছাকাছিও যেতে পারিনি। টেস্টে মাত্র এক বিভাগে ভালো করলে যে রকম ফলাফল করার কথা, সে রকম ফলাফলই হয়েছে।’

[220826]

গাজী আশরাফ জানান, সিলেট ও চট্টগ্রাম দুই টেস্টের কোনোটিতেই বাংলাদেশ হোম কন্ডিশনের সুবিধা নেয়নি। সিলেটে উইকেট ছিল সবুজ, স্পোর্টিং। চট্টগ্রামে ব্যাটিং সহায়ক। দুই দলের জন্যই সমান সুবিধা। কিন্তু এ রকম উইকেটে ঘরের মাঠেও যে বাংলাদেশের জন্য খেলাটা কঠিন হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গতকাল শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজ। এ নিয়ে একবাক্যে প্রধান নির্বাচকের মন্তব্য, ‘আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক রেখে সিরিজ খেললাম, যেখানে কোনো বাড়তি সুবিধা নেওয়া হয়নি। আর তাতেই দেশের ক্রিকেটের প্রকৃত চিত্রটা উঠে এল।’

সিলেট টেস্ট থেকে নেওয়া কোনো শিক্ষা আমরা চট্টগ্রামে কাজে লাগাতে পারিনি। এটাই আমার দুঃখের কারণ।

গাজী আশরাফের চোখে এর একটা কারণ হতে পারে যথাযথ প্রস্তুতির অভাব। এ রকম সিরিজের আগে সফরকারী দলকে প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ দেওয়ার জন্য হলেও নিজেদের দলের কিছু ক্রিকেটার ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ পান। অনেক সময় নিজেরাও নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেন। 

এবার সেসবের কিছুই ছিল না-সাদা বলের ক্রিকেট থেকে সরাসরি লাল বলের ক্রিকেট। তবে গাজী আশরাফ নিজেই পরে এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেছেন, ‘আমি মনে করি যে সংস্করণ সামনে আসবে, খেলোয়াড়দের তখন সেই সংস্করণের খেলাটাই মাথায় ঢোকানো উচিত। অন্য চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত। এখানেই বেশি গোলমাল হয়ে গেছে।’

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের পর্যবেক্ষণ টেস্ট ক্রিকেটের টেম্পারামেন্ট বা মেজাজ, মনোযোগ, দক্ষতা এবং পরিস্থিতি সঠকভাবে বুঝতে পারা-বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাটসম্যনরা ব্যর্থ হয়েছেন, ‘সিলেট টেস্ট থেকে নেওয়া কোনো শিক্ষা আমরা চট্টগ্রামে কাজে লাগাতে পারিনি। এটাই আমার দুঃখের কারণ।’

এআর