বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম বেড়েছে ৫৮৭ শতাংশ!

  • ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: আসন্ন বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হারে বাড়িয়েছে ফিফা। বুধবার প্রকাশিত চতুর্থ তথা সর্বশেষ ধাপের টিকিট বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে দামি সিটের টিকিট এখন তালিকাভুক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা)।

গত ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের তুলনায় এই মূল্যবৃদ্ধি অনেক বেশি। কাতারে অনুষ্ঠিত আসরের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা)। অর্থাৎ সেই তুলনায় এবার দাম বেড়েছে ৫৮৬.৮২ শতাংশ! এমনকি তৃতীয় ধাপের টিকিট বিক্রির উইন্ডোর তুলনায়ও দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তখন টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ টাকা)।

[268327]

অন্যান্য ক্যাটাগরির টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ক্যাটাগরি-২ টিকিটের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ৩০০ টাকা), যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭০০ টাকা)। ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম ৪ হাজার ১৮৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকা) থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা)।

এবারের আসরে ফিফা 'ডায়নামিক প্রাইসিং' মডেল অনুসরণ করছে, যার ফলে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে টিকিটের দাম ওঠানামা করে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, এই আয় দিয়ে বিশ্বজুড়ে তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের উন্নয়ন করা হবে। তবে তাদের এই পন্থা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

টিকিটের দাম ওঠানামার এই কৌশলের বিরুদ্ধে ভক্ত ও নীতিনির্ধারক—উভয় পক্ষই ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছে। গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসের ৬৯ জন ডেমোক্রেটিক সদস্য ফিফার এই পদ্ধতির সমালোচনা করে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, এই 'ডায়নামিক প্রাইসিং' ফুটবলকে সবার কাছে সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যের সঙ্গে 'পুরোপুরি সাংঘর্ষিক'। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আর্থিকভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে 'বর্জনীয়' আসর হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ধাপের বিক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ফিফার ওয়েবসাইটে ভক্তদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি অনেককে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। কোন ম্যাচ বা কোন ক্যাটাগরির টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তা ফিফা শুরুতে না জানানোয় ব্যবহারকারীদের 'ম্যানুয়ালি' তা খুঁজে নিতে হয়েছে।

কারিগরি ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ফিফা বর্তমান ধাপটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। কারণ এবারই প্রথম ভক্তরা টিকিট কেনার সময় নির্দিষ্ট আসন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফাইনালের পাশাপাশি গ্রুপ পর্বের ১৭টি ম্যাচের অতিরিক্ত কিছু টিকিট ছাড়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও টিকিট পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য টিকিট বিক্রির এই প্রক্রিয়ার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন যে, টিকিটের চাহিদা অভূতপূর্ব। তার মতে, টিকিটের জন্য এত আবেদন পড়েছে যেন মনে হচ্ছে এটা 'একসঙ্গে ১০০০ বছরের বিশ্বকাপের সমতুল্য'। তবে দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ ভক্তদের আশঙ্কা— ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাটে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে।

এসআই