গোপনে ঢাকায় এলেন নতুন কোচ থমাস ডুলি

  • ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) নাটকীয়তার যেন শেষ নেই! গত কয়েকদিন ধরে দেশের ফুটবল অঙ্গনে যে গুঞ্জন চলছিল, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তা-ই সত্যি হলো। বাফুফে ভবনের সামনে চলমান বিক্ষোভ ও কর্মকর্তাদের দ্বিধাদ্বন্দ্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জার্মানি বংশোদ্ভূত মার্কিন তারকা থমাস ডুলি।

তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে বেশ চুপিসারে। সাধারণত জাতীয় দলের কোচ আসার বিষয়টি ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে জানানোর রীতি থাকলেও, বাফুফে এবার হেঁটেছে উল্টো পথে। গতকাল সকালে থমাস ডুলি যখন ঢাকায় পা রাখেন, তখনো বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। বাফুফে কেন এই লুকোচুরির আশ্রয় নিলো, তা নিয়ে ফুটবল মহলে প্রশ্ন উঠলেও ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অবশেষে কোচ ঢাকায় পৌঁছানোর পর একটি সাধারণ প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বাফুফে নিশ্চিত করে যে, ডুলিই হচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন মাস্টারমাইন্ড। আগামী ২৪ মে থেকে নতুন কোচের অধীনে শুরু হতে যাচ্ছে লাল-সবুজের নতুন যাত্রা, যার অংশ হিসেবে দুই-এক দিনের মধ্যেই জাতীয় দলের ক্যাম্প ডাকা হবে।

কে এই থমাস ডুলি?

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া থমাস ডুলির খেলোয়াড়ি ও কোচিং প্রোফাইল বেশ ভারী। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নামার পর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছিল তাঁর হাতে। কোচিং ক্যারিয়ারেও রেখেছেন দক্ষতার ছাপ; ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্বখ্যাত জার্মান কোচ ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে কাজ করেছেন। যুব ফুটবলারদের নিয়েও কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

ঢাকায় আসার পরদিনই গতকাল বিকেলে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সাথে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বিএসপিএ’-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ডুলি। সেখানে নিজের ফুটবল দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি জার্মানি থেকে এসেছি, যেখানে ফুটবলের তুমুল চাপ ও উন্মাদনা রয়েছে। তাই চাপ সামলানো আমার জন্য কোনো ব্যাপার না, বরং আমি চাপে থাকতেই পছন্দ করি। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় ফুটবলার ও ফেডারেশনকে বলি—লক্ষ্য যদি বাস্তবসম্মত হয়, তবে যেকোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব।”

বাংলাদেশের ফুটবলকে কেবল বলের পেছনে দৌড়ানো থেকে বের করে এনে পাসিং ফুটবলে অভ্যস্ত করতে চান ডুলি। তার স্পষ্ট কথা, “বল তাড়া করা আমি পছন্দ করি না। কারণ অধিকাংশ সময় কেবল শুধু শুধু দৌড়াতে হয়, বল ফেরত পাওয়া যায় না। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা বল পায়ে রেখে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলুক।”

লক্ষ্য: র‍্যাংকিংয়ে ১৫০-১৬০ এর ঘরে পৌঁছানো

বর্তমানে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৮১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশকে ১৬০ থেকে ১৫০-এর ঘরে নিয়ে আসতে চান এই নতুন কোচ। নিজের লেখা বই 'The Truth About Success in Soccer That No One Teaches'-এর সূত্র ধরে তিনি জানান, সাফল্যের অন্যতম মূল স্তম্ভ হলো ‘মানসিকতা’।

ডুলি বলেন, “মানসিকতা রাতারাতি বদলায় না, এটা চিন্তার ধরন পরিবর্তনের বিষয়। ১৬০-এর নিচে নামাটা অসম্ভব নয়, তবে তা আগামীকালই হবে না; হয়তো এক বছরের মতো সময় লাগবে।”

এদিকে স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ায়নি বাফুফে। মজার ব্যাপার হলো, সাবেক কোচ কাবরেরাকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলে কিছুদিন আগে ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্যপদ হারিয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া শাহীন। শেষ পর্যন্ত শাহীনের সেই দাবি পূরণ হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গতকাল বিমানবন্দরে নতুন কোচ থমাস ডুলিকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে দেখা গেছে সেই শাহীনকেই, যা বাফুফের অন্দরমহলের সমীকরণ পরিবর্তনের এক নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এম