২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে লাল কার্ড নিয়ে নতুন করে কঠোর নিয়ম কার্যকর হওয়ায় ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। মাঠের শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার এই অনমনীয় অবস্থানের প্রমাণ মিলল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই। প্রথম ম্যাচেই রেফারিকে রেকর্ড তিনটি লাল কার্ড দেখাতে হয়েছে, যার খেসারত হিসেবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় সরাসরি লাল কার্ড দেখলে অথবা একই ম্যাচে দুইটি হলুদ কার্ডের সমন্বয়ে লাল কার্ড (মার্চিং অর্ডার) পেলে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করায় দক্ষিণ আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দুই তারকা ইয়ায়া সিথোল ও থেম্বা জোয়ানে এবং মেক্সিকোর নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সিজার মন্টেস তাদের দলের পরবর্তী মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না।
তবে কেবল এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাতেই পার পাওয়া যাবে না; শৃঙ্খলা নীতিতে ফিফা এবার আরও বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বেশি হলে বা শৃঙ্খলাজনিত গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হলে ফিফা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে রেখেছে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বা শৃঙ্খলা কমিটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বা বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও আরোপ করতে পারে।
লাল কার্ডের পাশাপাশি হলুদ কার্ড নিয়েও সুনির্দিষ্ট ও পরিমার্জিত নিয়ম চালু রেখেছে ফিফা। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে তিনি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। তবে নকআউট পর্বের আগে খেলোয়াড়দের ওপর থেকে মানসিক চাপ কমাতে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর আগের সব হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে ফেলা হয়। একইভাবে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব শূন্য বা 'ক্লিন স্লেট' করা হয়, যাতে ফাইনালে কার্ডের খড়্গে কোনো তারকা বাদ না পড়েন। তবে লাল কার্ডের শাস্তির ক্ষেত্রে ফিফা কোনো ধরনের ছাড় বা সহানুভূতি দেখাচ্ছে না-এটি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কার্যকর থাকে এবং পরবর্তী ম্যাচে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলবৎ হয়।
উদ্বোধনী ম্যাচে কার্ডের এমন মহড়া দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অভিজ্ঞ কোচ হুগো ব্রুস ম্যাচ শেষে নিজের চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দ্বিতীয় কার্ডটি নিয়ে নিশ্চিতভাবেই বিতর্ক করা যেতে পারে। আমার খেলোয়াড়কে উল্টো ব্লক করা হয়েছিল। রেফারির পজিশন থেকে তিনি হয়তো যেভাবে দেখেছেন সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আমাদের বাধ্য হয়ে মেনে নিতেই হচ্ছে। তবে আমি কোনোভাবেই মনে করি না এটি সরাসরি লাল কার্ড হওয়ার মতো কোনো অপরাধ ছিল, সিদ্ধান্তটি বড্ড বেশি কঠোর ছিল।
অবশ্য প্রথম লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি প্রোটিয়া কোচ। তিনি যোগ করেন, প্রথম লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি মেনে নিতেই হয়। কারণ প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় গোল করার জন্য একা এগিয়ে যাচ্ছিল এবং ইয়ায়া তাকে ফাউল করে থামিয়েছিল, সেটা ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝতে পারি। কিন্তু নতুন নিয়মের এই অতি-কঠোরতা টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।
এসএইচ