ঢাকা: ম্যাচ শুরু হতে না হতেই জালে বল পাঠালেন মাতিয়াস গালারসা। রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে সেটাই হয়ে থাকল একমাত্র গোল! দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় একজন বেশি থাকার সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না তুরস্ক। অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া করে হারল টানা দ্বিতীয় ম্যাচে।
স্যান ফ্রান্সিসকোয় বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে জমজমাট লড়াইয়ে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০ শট নিয়েও জালের দেখা পায়নি তুরস্ক। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৩২ শট নিয়েও গোল ব্যর্থ হলো দলটি।
এই পরাজয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তুরস্কের। আগামী শুক্রবার তারা নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলবে শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। একই সময়ে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়াইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে।
[272112]
টানা দুই জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পয়েন্ট ৬। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের পয়েন্ট তিন করে। কোনো পয়েন্ট পায়নি তুরস্ক।
তুরস্কের বিপক্ষে এদিন প্রথম ভালো সুযোগেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ডি বক্সের বাইরে বল পেয়ে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন গালারসা। ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন কেবল ৬৫ সেকেন্ড।
বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার দেশটির এটি দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। ১৯৯৮ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৫২ সেকেন্ডে গোল করে রেকর্ড এখনও সেলসো আয়ালার।
শুরুর গোলের পর দারুণ জমে ওঠে লড়াই। গোলের জন্য মরিয়া তুরস্ককে সে সময় সুযোগ তৈরি করতে দিচ্ছিল না প্যারাগুয়ে।
৩৫তম মিনিটে আসে সুযোগ। হাকান চালহানোলুর ফ্রি কিকে মেয়ার্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে মাঠে ফেরে!
৩৭তম মিনিটে প্যারাগুয়ের হুয়ান হোসে কাসেরাসের গতিময় শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি তুরস্ক গোলরক্ষক।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন। হাতে দিয়ে মুখ ঢেকে মুলদুরকে কিছু একটা বলেন তিনি। মনিটরে ঘটনা দেখে আলিমরনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফিফার নতুন নিয়মে বিশ্বকাপে শাস্তি পাওয়া প্রথম খেলোয়াড় আটলান্টা ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার।
এক জন বেশি থাকার সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়েকে বেশ চেপে ধরে তুরস্ক। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ইউরোপের দেশটি। সুযোগও আসতে থাকে।
৫৮তম মিনিটে একটুর জন্য শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি চালহানোলু।
পরের মিনিটে মেরিথ দেমিরালের শট হেড করে গোলরক্ষককে দিতে গিয়ে প্রায় নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন প্যারাগুয়ের একজন। বেরিয়ে এসে বল ধরতে গিয়ে তালগোল পাকান গোলরক্ষক, ওই সুযোগে শট নেন ওরালান্দো গিল। কিন্তু জটলার মধ্যে জালের দেখা পাননি তিনি।
৬১তম মিনিটে হুলিও এন্সিসকোর দারুণ গতিতে কাট করে ভেতরে ঢুকে যান। পায়ের কারিকুরিতে চমৎকার সুযোগ তৈরি করলেও শট লক্ষ্যেই রাখতে পারেননি প্যারাগুয়ের এই ফরোয়ার্ড।
পরের মিনিটে গিলের চমৎকার ক্রসে সুযোগ পান দেনিস গুল। কিন্তু বদলি নামা তুরস্কের তরুণ ফরোয়ার্ডের হেডে ছিল না জোর।
শেষের দিকে যেন প্রতি মিনিটেই সুযোগ তৈরি করছিল তুরস্ক। কখনও শট লক্ষ্য রাখতে পারছিলেন না ফরোয়ার্ডরা, কখনও একটুর জন্য পা ছোঁয়াতে পারছিলেন না, কখন শট নিচ্ছিলেন গোলরক্ষক বরাবর। দেমিরাল, আর্দা গিলের, গুল ও গিলের হাতছাড়া করেন একের পর এক সুযোগ!
৮৯তম মিনিটে সমতা ফেরানোর খুব ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন চান উজুন। বিপজ্জনক জায়গা থেকেও তিনি শট নেন অনেকটা গোলরক্ষক বরাবর।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আরও একটা সুযোগ আসে দেমিরালের সামনে। দুই ডিফেন্ডারের কড়া পাহারার মাঝে থেকেও তাদের উপরে লাফিয়ে হেড করেন তিনি। কিন্তু এটাও লক্ষ্যে থাকেনি, দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বল!
চোখে জল ও একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তুরস্ক। প্রথম ম্যাচে বাজে হারের পর পাওয়া দারুণ জয়ে উচ্ছ্বাসে তখন ভাসছিল প্যারাগুয়ে।