মেসি না এমবাপ্পে কে পাচ্ছেন গোল্ডেন বুট; পরিসংখ্যান যা বলছে

  • ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ছবি: এআই তৈরি

গোল্ডেন বুটের লড়াই সবসময়ই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৬ আসরেও শুরু থেকেই জমে উঠেছিল সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন-চার তারকা ছিলেন মাত্র দুই গোলের ব্যবধানে। তবে শনিবার মায়ামির নাটকীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে নরওয়ে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ায় রেস থেকে ছিটকে গেছেন ৭ গোল করা আর্লিং হালান্ড।

অন্যদিকে নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম তাঁর গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ছয়ে, যেখানে আগে থেকেই আছেন সতীর্থ হ্যারি কেইন। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ইংল্যান্ডের দুই তারকা পেছনে থাকলেও শীর্ষে আছেন সেই দুই নাম, যাদের ঘিরেই ফুটবলবিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচনা—লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ওই ম্যাচে গোলের দেখা পাননি মেসি। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা নয় ম্যাচ পর গোলহীন থাকলেন তিনি। তা সত্ত্বেও গোলের দৌড়ে এখনো আটটি গোল নিয়ে শীর্ষেই আছেন মেসি।

একই সংখ্যক গোল নিয়ে তাঁর পাশে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপেও দুজনের গোলসংখ্যা ছিল আট। সেবার ফাইনালে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক তাঁকে এক গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দিয়ে গোল্ডেন বুট এনে দিয়েছিল, আর মেসির অধরা থেকে যায় এই পুরস্কার।

২০২৬ বিশ্বকাপেও দুজনের গল্পে রয়েছে দারুণ মিল। দুজনই নকআউট পর্বে পেনাল্টি মিস করেছেন, আবার দ্রুতই গোল করে নিজেদের ফিরে পেয়েছেন। মেসি মিশরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার পর ৮৩তম মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান। অন্যদিকে মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি ব্যর্থ হওয়ার পরও দুর্দান্ত এক গোল করে নিজের অষ্টম গোল পূর্ণ করেন এমবাপ্পে।

তবে গোল সমান হলে অবশ্য সামান্য এগিয়ে থাকবেন এমবাপ্পে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল সংখ্যা সমান হলে অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। এই বিশ্বকাপে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট তিনটি, যেখানে মেসির রয়েছে দুটি। ফলে টুর্নামেন্ট আজ শেষ হলে সমান গোল নিয়ে টাইব্রেকিং নিয়মে গোল্ডেন বুট যাবে ফরাসি তারকার দখলেই।

গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি বিশ্বকাপের গোলের ইতিহাসেও চলছে আরেক লড়াই। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, তাঁর মোট গোলসংখ্যা ২১। অন্যদিকে ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে আছেন ২০ গোলে, অর্থাৎ মাত্র এক গোল পিছিয়ে। ফলে তাদের প্রতিটি গোল একই সঙ্গে বদলে দিচ্ছে গোল্ডেন বুটের লড়াই এবং বিশ্বকাপের রেকর্ডবুক।

মেসির বিশ্বকাপ গোলের যাত্রাও এবার নতুন উচ্চতায় উঠেছে। কাতার বিশ্বকাপে ৫টি গোল করার পর চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল এবং জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে একটি করে গোল করেছেন তিনি।

সামনে তৈরি হচ্ছে এক স্বপ্নের ফাইনালের সম্ভাবনা। সেমিফাইনালে ফ্রান্স খেলবে স্পেনের বিপক্ষে। আর্জেন্টিনা নিজেদের ম্যাচ জিতলে নিউইয়র্কে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে পারেন মেসি ও এমবাপ্পে। হালান্ড বিদায় নিয়েছেন, বেলিংহাম ও কেইন এখনো লড়াইয়ে আছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের গল্প আবারও ফিরে আসতে পারে সেই দুই মহাতারকার কাছেই। একজনের সামনে প্রথমবার অধরা গোল্ডেন বুট ছোঁয়ার স্বপ্ন, অন্যজনের সামনে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সুযোগ।

এসএইচ