ঢাকা: ফ্রি কিক থেকে যখন বল আশ্রয় নিল জালে, ধারাভাষ্যকার যেন ভাষা হারিয়ে ফেললেন। “এক্সট্রাঅর্ডিনারি...”, এটুকু বলে তিনি একটু দম নিলেন। এরপর বললেন, “কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না... তিনি মানুষ নন, অন্য কোনো গ্রহণ থেকে এসেছেন...।” কার সম্পর্কে বলা হচ্ছে, খেলা না দেখে থাকলেও বুঝে যাওয়ার কথা। ‘ভিন গ্রহের’ উপমা তো ফুটবলবিশ্বে কেবল একজনকে নিয়েই নিয়মিত ব্যবহৃত হয়!
নতুন করে কিছুই প্রমাণের নেই লিওনেল মেসির। স্রেফ একটু দেখিয়ে দিলেন, এই ৩৯ বছর বয়সেও কত অনায়াসে এক ম্যাচে চার গোল করে ফেলতে পারেন তিনি!
অধিনায়কের দীপ্তিময় দিনে গোলের মালা সাজিয়ে জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে সিএফ মন্ট্রিয়লকে বিধ্বস্ত করেছে তারা ৭-১ গোলে।
গত ২৫ জুলাইয়ের পর মায়ামির প্রথম জয় এটি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে জয় পেল তারা পাঁচ ম্যাচ পর।
[274984]
মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে চার বা এর বেশি গোল হলো এই নিয়ে ৯ বার।
১৮ গোল নিয়ে চলতি আসরে গোলের তালিকায় সবার ওপরেও উঠে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তার চার গোলের দুটি ফ্রি কিক থেকে, বাকি দুটির একটি জাদুকরি কারিকুরিতে।
চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করেন মেসি। মায়ামির অন্য তিন গোল করেন কাজেমিরো, লুইস সুয়ারেস ও আলেক্সান্ডার শ।
ঘরের মাঠে একটু ধীরলয়ে ম্যাচের শুরুর পর নিয়ন্ত্রণ নেয় মায়ামি। মেসি প্রথম গোলের দেখা পেতে পারতেন নবম মিনিটেই। বক্সের বাইরে থেকে তার গড়ানো শট গোলকিপারের নাগালের বাইরে থাকলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
১৯তম মিনিটে কর্নার থেকে তেলাস্কো সেগোভিয়ার হেড ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ফিরতি বলে হার্মান বের্তেরামের ভলি বাইরে চলে যায় এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে। আবার কর্নারে জটলার মধ্য থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান কাজেমিরো।
মন্ট্রিয়ল সমতায় ফেরে ৩৭তম মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে ফাবিয়ান হার্বাসের গড়ানো শটে জের বেশি ছিল না। তবে সেটি ফেরাতে স্লাইড করেছিলেন মায়ামির একজন। তার পায়ে হালকা লেগে গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করে বল ঢুকে যায় জালে।
আবার এগিয়ে যেতে সময় লাগেনি মায়ামির। মিনিট তিনেক পর ফ্রি কিক পায় মায়ামি। মেসির শটে জোর বেশি ছিল না। গোলের জন্য নয়, তিনি মূলত শট নিয়েছিলেন বল গোলমুখে রাখতে। কিন্তু প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে গোলকিপারের হাতে লেগে বল আশ্রয় নেয় জালে। একজনের পায়ে লাগার পরও গোলকিপারের ঠেকানোর মতোই ছিল বলটি। গোলটি আত্মঘাতী হবে নাকি মেসির, সেটি নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মায়ামি অধিনায়কের নামের পাশেই যোগ করা হয়।
৪৪তম মিনিটে আবার বক্সের বাইরে থেকে মেসির শট সামান্যর জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
যোগ করা সময়ে অবিশ্বাস্য এক পাস দেন মেসি, যেটি থেকে হতে পারত গোল। কিন্তু গোলকিপারকে একা পেয়েও নোয়াহ অ্যালেন পারেননি কাজে লাগাতে।
প্রথমার্ধ শেষে দু্ই দল ছিল কাছাকাছি। পরের অর্ধ একদমই একতরফা। একের পর এক গোল করেন মেসি ও তার দল।
আর্জেন্টাইন জাদুকরের দ্বিতীয় গোলটি আসে ৫২তম মিনিটে। ঐন্দ্রজালিক এক গোল সেটি, তার ক্যারিয়ারে অবশ্য এরকম গোলেরও অভাব নেই।
বক্সের একটু বাইরে বল পেয়ে একজনকে কাটিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়ে পাস বাড়ান। কিন্তু মন্ট্রিয়লের একজনের পায়ে লেগে বল ফিরে আসে তার কাছেই। তিনি বল ধরে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তার চারপাশে প্রতিপক্ষের তিন জন। এর মধ্যেই দুজনকে কাটিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। বলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হারাতেও আবার সামলে নেন। এরপর কাটিয়ে ফেলেন আরও একজনকে। হতভম্ব ও অসহায় মন্ট্রিয়লের রক্ষণভাগ তখন হাল ছেড়ে দিয়ে স্রেফ দেখতে থাকে। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে বলকে পাঠান কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।
৫৯তম মিনিটে পরপর দুই দফায় গোল করার সুযোগ হারায় মন্ট্রিয়ল।
৭৬তম মিনিটে সুয়ারেসের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন মন্ট্রিয়লের গোলকিপার। তবে একটু পর ঠিকই সফল হন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ তারকা।
৮০তম মিনিটে প্রতিআক্রমণে মাঝমাঠ থেকে চমৎকার এক লব করেন মেসি। অফসাইড ফাঁদ এগিয়ে বল ধরে এগিয়ে যান সুয়ারেস। পায়ের সামনের অংশ দিয়ে শট নিয়ে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে তিনি বল পাঠান জালে।
মেসির হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় ৮৩তম মিনিটে। থ্রু বল ধরে তিনি দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর আগুয়ান গোলকিপারের ওপর দিয়ে মাপা চিপ শটে লক্ষ্য ভেদ করেন।
মায়ামির ষষ্ঠ গোলটি করেন বদলি নামা শ। ৮৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন তিনি মন্ট্রিয়লের রক্ষণ দেয়ালের ফাঁক গলে। ১৮ বছর বয়সী প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের গড়ানো শট ঠেকাতে পারেননি গোলকিপার।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির ডান পায়ের শট ধরে ফেলেন গোলকিপার। মিনিট তিনেক পর অবশ্য কোনো উপায় পাননি গোলকিপার। বক্সের একটু বাইরে মাঝবরাবর ফ্রি কিক পায় মায়ামি। মেসির বাঁপায়ের বাঁকানো শটে ডাইভ দিয়ে নাগাল পাননি গোলকিপার।
২২ ম্যাচে ৪২ গোল নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে ইন্টার মায়ামি। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।
এসআই