মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, শীত আরও বাড়ার পূর্বাভাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৮:০১ এএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। তাপমাত্রা ক্রমশ নেমে যাওয়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে দিনের বেলাতেও কুয়াশার কারণে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব জেলা হলো—চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। শনিবার সকালে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে অন্যতম সর্বনিম্ন। এর আগে শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিন হালকা থেকে ঘন কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোনো কোনো অঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে সড়ক, নৌ ও বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ঘন কুয়াশার প্রভাব ইতোমধ্যে নৌপথেও দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মেঘনা নদীতে কুয়াশার কারণে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি ঘটে। এই দুর্ঘটনা কুয়াশাজনিত ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, জানুয়ারির শুরুতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। দেশের অভ্যন্তরের জলাশয়, বিল ও হাওর থেকে সৃষ্ট কুয়াশা, পাহাড়ি এলাকায় গঠিত কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা বায়ুতাড়িত কুয়াশার কারণে সামগ্রিকভাবে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঠান্ডার অনুভূতিও বাড়ছে।

এদিকে শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৬, গোপালগঞ্জে ৯ দশমিক ৮ এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। একই দিনে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, শীত ও কুয়াশার এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং নৌ ও সড়কপথে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে।

এম