মঙ্গলবার থেকে বাড়বে শীতের তীব্রতা, নামতে পারে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় আজও বিপর্যস্ত সারা দেশ। কোথাও সূর্যের দেখা নেই, পৌষের কনকনে শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। টানা কয়েক দিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও এরপর ফের শীত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত নামার নজির রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুইটি হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এসব শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি কিংবা কোথাও কোথাও ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।

এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার—উভয় দিনই সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত চার দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড হয়েছে।

টানা শীতের দাপটে শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে সড়ক-মহাসড়ক, যার প্রভাব পড়ছে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগে। গতকাল সকালে কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হয়, যা চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে অবতরণ করে। সড়কেও কুয়াশাজনিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বর্তমানে সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবারও শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং দু-একটি এলাকায় তা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। গত বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ বেশি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আজ শনিবার মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও তা সাময়িকভাবে প্রশমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান চলাচল, নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে থাকায় দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এম