বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:৩২ এএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গতকাল শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, লঘুচাপটি আরও পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

[275047]

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, লঘুচাপটি পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেলে স্থলভাগের ওপর উঠে যেতে পারে। এর পরও এটি ঘনীভূত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর সর্বোচ্চ প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে।

তিনি আরও বলেন, লঘুচাপ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হলে স্থলভাগে উঠে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাগর এলাকায় এর প্রভাব খুব বেশি নাও থাকতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকলে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। হ্রদের পানির উচ্চতা গতকাল দুপুর ২টায় ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল ছাড়িয়ে যায়। তাই রাত ১০টা থেকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট একসঙ্গে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে হ্রদ থেকে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়েছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হ্রদের উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত করা হবে। বর্তমানে হ্রদের উচ্চতা, পানির প্রবাহ (ইনফ্লো), বৃষ্টিপাতসহ সার্বিক পরিস্থিতিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত, পানির উচ্চতা এবং ইনফ্লোর তারতম্যের ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়া হতে পারে। ইনফ্লো বেশি হলে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

গতকাল বিকেলে পাউবোর রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণ সীমা ১০৯ ফুট এমএসএল। এর বেশি হয়ে দ্রুত পানি ছাড়তে হয় কর্ণফুলী নদীতে। রাতে ৬ ইঞ্চি করে পানি ছাড়া হবে। তাই রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর বেড়ে যাবে। আমরা সর্তক আছি।

এসআই