জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ফাইল ছবি

খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। এসব মানুষের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো অতি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে বসবাস করলেও জলবায়ু অর্থায়ন তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় আগামী সোমবার তুরস্কের আন্তালিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন কপ৩১। যদিও জলবায়ু অর্থায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং ভূরাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে এই সম্মেলন থেকে বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা কম।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বসবাস করছেন উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে। ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে গেলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকছে না। সংঘাত ও সংকটে থাকা দেশগুলোতে জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশের মতো পৌঁছায়।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি গুরুতর জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে ফিরেছেন, যা তাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্থাটি অভিযোজন খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কপ৩১ সম্মেলনে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেবে। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থান তুলে ধরবেন। সম্মেলনস্থলে ১০০ বর্গমিটারের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে বাংলাদেশ সরকার।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও উন্নয়নকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল দাবি থাকবে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে দ্রুত অনুদান পাওয়া এবং বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকা হারানোর মতো ক্ষতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সহায়তা নিশ্চিত করা।

এসএইচ