• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নাটোরে আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু


নাটোর প্রতিনিধি ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
নাটোরে আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও এক সদস্য গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। আগুনে চারটি বসতঘর, একটি মুদিদোকান এবং গবাদিপশুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া বিন্নাবাড়ী এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— স্থানীয় কৃষক রান্টুর স্ত্রী আতিয়া খাতুন (২৮) এবং তাদের এক বছর বয়সী শিশু কন্যা রওজা। অগ্নিকাণ্ডে রান্টুর মা মর্জিনা বেগম গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ রান্টুর বাড়ি থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় আতিয়া ও তার শিশু কন্যা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, “ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে আমরা অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আমাদের পৌঁছানোর আগেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনে রান্টুর বাড়ির মোট চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। পাশাপাশি তাদের একটি মুদিদোকানও ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ধান-চালসহ সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া আগুনে পুড়ে মারা গেছে পরিবারের পালিত ১২টি ছাগল।

এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র ছিল। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। মা-মেয়ের করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ঘটনাস্থল।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন  জানান, অগ্নিকাণ্ডে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে একটি সুখী পরিবার মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এম

Wordbridge School
Link copied!