• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

এপস্টেইন ফাইল কী, আর কেন তা বিশ্বজুড়ে তোলপাড়?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
এপস্টেইন ফাইল কী, আর কেন তা বিশ্বজুড়ে তোলপাড়?

যৌন অপরাধে অভিযুক্ত ও প্রভাবশালী মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত নথিপত্র—যা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত—এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ফাইলগুলোতে থাকা তথ্য প্রকাশকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও চাপ তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে এসব গোপন নথি প্রকাশের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছিল। শুধু বিরোধী ডেমোক্র্যাটরাই নয়, রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও স্বচ্ছতার দাবি ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে নথি প্রকাশে অনাগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলাতে বাধ্য হন ট্রাম্প।

গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থাগুলো জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও যৌন অপরাধ সংক্রান্ত তদন্তে সংগৃহীত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করে। এসব নথির মধ্যেই রয়েছে সাক্ষ্য, ইমেইল, আর্থিক লেনদেন ও অভিযানকালীন জব্দ করা নানা তথ্য—যেগুলো সম্মিলিতভাবে পরিচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে।

এপস্টেইনের অপরাধ ইতিহাস

জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাসভবনে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রথমবার তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সে সময় প্রভাব খাটিয়ে প্রসিকিউশন চুক্তির মাধ্যমে গুরুতর সাজা এড়িয়ে যান তিনি, যদিও তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়।

এর প্রায় এক দশক পর, ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে আবারও গ্রেফতার হন এপস্টেইন। বিচার শুরু হওয়ার আগেই নিউইয়র্কের কারাগারে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়, যা পরে কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে। তবে এ ঘটনাকে ঘিরে এখনো নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়ে গেছে।

এই দীর্ঘ তদন্তে ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি, এপস্টেইনের একাধিক সম্পত্তিতে অভিযান এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এসব নথিই পরবর্তীতে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিতি পায়।

ট্রাম্পের নাম কেন আলোচনায়?

এপস্টেইন ফাইল ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম আলোচনায় আসে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইনের প্রথম দণ্ডের আগেই তিনি তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না।

সম্প্রতি হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কিছু ইমেইল প্রকাশ করেন। সেসব ইমেইলের একটি, ২০১১ সালের, ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, এক ভুক্তভোগী তার বাসভবনে ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউস পরে নিশ্চিত করে যে ওই ভুক্তভোগী হলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে।

তবে বিষয়টি ঘোলাটে হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য হলো—মৃত্যুর আগে ভার্জিনিয়া গিফ্রে নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবস্থায় দেখেননি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফাইল বা ইমেইলগুলোতেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সামনে কী?

এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের ফলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—এই নথিগুলো থেকে আর কত প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে আসে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ পেলে বিশ্ব রাজনীতি ও প্রভাবশালী মহলে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

এম

Wordbridge School
Link copied!