ছবি : প্রতিনিধি
পাবনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা।
পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনেও মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন একাধিক নেত্রী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পাবনার ঈশ্বরদীর মহিলা দল নেত্রী ললিতা গুলশান মিতা। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। ইতিমধ্যে তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতিক ও নারী উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। এজন্য তাকে পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চান এ অঞ্চলের মানুষ।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বাঁশেরবাদা গ্রামের মো. আলমগীর কবিরের স্ত্রী মিতা দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তানের জননী। তিনি মৃত ডা. মোশাররফ হোসেন ও মৃত রোজী হোসেন দম্পতির কন্যা। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মিতা। ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন তিনি। বর্তমানে এলএলবি পড়ছেন।
১৯৯৫-৯৬ সালে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে পড়াশোনার সময় ওই কলেজ শাখা ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক। এছাড়া ঈশ্বরদীর বাঁশেরবাদা ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সেইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পাবনা জেলা শাখা ও ঈশ্বরদী পৌর শাখার ১ নম্বর সদস্য তিনি।
ললিতা গুলশান মিতা এর আগে জাতীয়বাদী মহিলাদল ঢাকা মহানগর উত্তর শের-ই বাংলা নগর থানা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া মহিলাদল ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাঁশেরবাদা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও মিতা সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে স্বর্ণপদক সহ একাদিক পদক লাভ করেন। কর্মহীন নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১০০০ হাজার নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রকল্প এর সদস্য তিনি। বিভিন্ন দুর্যোগ মূহুর্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে দুর্যোগগ্রস্থদের সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি।
খেলাধূলায়ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন মিতা। স্কুল কলেজে পড়াশোনার সময় ব্যাডমিন্টন ও ভলিবল খেলায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। দৌঁড়, লং জাম্প, হাই জাম্প সহ অন্যান্য খেলাতেও চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। নাচ ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগী ও পরে ঢাকা জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় ললিতা গুলশান মিতা বলেন, ‘বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সংযুক্ত থেকে সমাজের মানুষের জন্য ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে সমাজের অসহায় সুবিধা বঞ্চিত নারীদের উন্নয়নে পাশে দাঁড়াতে চাই। এ জন্য নারী সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি। ইতিমধ্যে দলের চেয়ারম্যান বরাবর মনোনয়ন পেতে আবেদন করেছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
পিএস







































