• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিয়ের তথ্য গোপন, ধর্ষণের অভিযোগ জামাতার বিরুদ্ধে শাশুড়ির মামলা


বরিশাল অফিস মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
বিয়ের তথ্য গোপন, ধর্ষণের অভিযোগ জামাতার বিরুদ্ধে শাশুড়ির মামলা

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে বিয়ের বৈধতা নিয়ে চলা বিরোধে জামাতার বিরুদ্ধে শাশুড়ির ধর্ষণ মামলা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে দু’পক্ষের বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২ মার্চ ২০২৫-এ একই গ্রামের বারেক কাজীর ছেলে মাইদুল কাজীর সঙ্গে বাচ্চু মোল্লার মেয়ে ময়না বেগমের বিয়ে হয় ইসলামি শরিয়া মোতাবেক, গায়েহলুদসহ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। শতাধিক গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পর দম্পতি চার মাস ঢাকায় ভাড়া বাসায় ছিলেন। পরে পারিবারিক কলহে ময়না বাপের বাড়ি চলে যান।

৩১ আগস্ট ২০২৫-এ কন্যার মা সুমি বেগম বরিশাল আদালতে মামলা করেন। মামলায় জামাতা মাইদুল, তার বাবা বারেক কাজী ও ননদ-জামাইকে আসামি করা হয়। সকলে জেল খেটে বর্তমানে জামিনে আছেন।

বাদী সুমি বেগমের দাবি, মেয়ের বিয়ের খবর গোপন রেখে তাঁর জামাতা মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। ৩১ আগস্ট ২০২৫-এ তিনি বরিশাল আদালতে মামলা করেন—আসামির তালিকায় জামাতা মাইদুল কাজী, তাঁর বাবা বারেক কাজী এবং ননদ-জামাই। সুমি বেগম বলেন, তিনি বিয়েতে রাজি ছিলেন না, ছেলের আগের একাধিক বিয়ের অভিযোগ আছে এবং কাবিননামা দেখাতে পারেননি। আমার স্বামী বিয়েতে থাকলেও চোখে কাবিননামা দেখেননি।

অন্যদিকে মাইদুল কাজী জানান, ২ মার্চ ২০২৫-এ শতাধিক অতিথি, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে গায়েহলুদসহ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামি শরিয়া অনুসারে বিয়ে হয়; ছবি-ভিডিও রয়েছে। তাঁর মতে, স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা অসঙ্গত।

বরের বাবা বারেক কাজীও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিয়ের পরও ধর্ষণ মামলা—জীবনে এমন শোনেননি। তিনি আরও জানান, স্থানীয় গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় বিচ্ছেদ ও মীমাংসার জন্য স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছেন মেয়ের মা, তবু মামলা চলমান।

ঘটক ছত্তার রাঢ়ী, ডেকোরেটর মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য পাখি বেগমসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় শতবর্ষী আছিয়া খাতুন থেকে সাধারণ যুবক পর্যন্ত অনেকে মামলাটিকে মিথ্যা ও প্ররোচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

বিয়ের কাজী বলেন,মেয়ের বাড়ির আমন্ত্রণে বিয়ে পড়াতে গিয়েছিলাম। কনের বয়স কম দেখে বিয়ে সম্পন্ন না করেই ফিরে আসি। কাবিননামায় বর-কনে ও সাক্ষীদের স্বাক্ষরসহ ছবি-ভিডিও আছে এমন দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বহু জায়গায় বিয়ে পড়িয়েছি; মানুষ তো নানা রকম ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করতেই পারে।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন; শিগগির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

এম

Wordbridge School
Link copied!