• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইরানকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে ৬ দেশ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
ইরানকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে ৬ দেশ

ফাইল ছবি

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৬টি দেশ।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। খবর রয়টার্স

মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে, যেখানে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ বহু মানুষ নিহত হন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

এই উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে যখন ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে বোমা হামলার পাল্টা জবাবে ইরান কাতারের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ‘কাতারএনার্জি’র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। রাস লাফান বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রক্রিয়াজাত করে।

এই হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিগুলো এখন তেলের আকাশচুম্বী দাম সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি সৌদি আরব তার তেল রপ্তানি সচল রাখতে লোহিত সাগরের যে বন্দরটি ব্যবহার করছিল, সেখানেও হামলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই নির্ভুল হামলাগুলো প্রমাণ করে, তারা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও শক্তিশালী আঘাত হানতে সক্ষম।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬টি দেশের নেতারা বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস স্থাপনার ওপর অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, মাইন স্থাপন এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সামরিক বা কৌশলগত প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

একই সঙ্গে এই দেশগুলো জানিয়েছে, তারা জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে বিকল্প তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুদ্ধে আমেরিকার লক্ষ্যগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে, তবুও মিত্র দেশগুলোর এই সম্মিলিত অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে— বিশ্ব অর্থনীতিকে সম্ভাব্য ধস থেকে বাঁচাতে তারা এখন অনেক বেশি সক্রিয়।

এসআই

Wordbridge School
Link copied!