• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

দেশে মজুত জ্বালানি তেলে আর কতদিন চলবে, সর্বশেষ যা জানা গেল


নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
দেশে মজুত জ্বালানি তেলে আর কতদিন চলবে, সর্বশেষ যা জানা গেল

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখনো পুরোপুরি ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে না পৌঁছালেও, সরবরাহ নিয়ে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে— এটা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুত আছে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো। তবে অন্য জ্বালানিগুলোর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ভিন্ন।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর একটি অংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার একটি অংশ দেশে পরিশোধন করা হয় এবং বাকিটা পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।

দেশে জ্বালানির সবচেয়ে বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। কৃষি সেচ, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে দেশে ডিজেলের সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টন। এর মধ্যে সরবরাহযোগ্য মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টন, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ এবং প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

দেশে অকটেনের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৬১৬ টন। বর্তমানে মজুত আছে প্রায় ১১ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পেট্রলের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। এর মধ্যে মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১১ দিন সরবরাহ বজায় রাখা যাবে।

আর ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। আর জেট ফুয়েলের মজুত ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৩ দিন সরবরাহ চালানো যাবে। কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিন চাহিদা মেটানো যাবে। মেরিন ফুয়েলের মজুত আছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ সম্ভব।

এদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারি-তে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টন পরিশোধন ক্ষমতা বিবেচনায় এই মজুত দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বর্তমান মজুত ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট হলেও একযোগে তিনটি চাপ; জাহাজ বিলম্ব, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আতঙ্কে চাহিদা বেড়ে যাওয়া—পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

এম

Wordbridge School
Link copied!