রাজশাহীর দুর্গাপুরে কলেজে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর স্থানীয় এক নেতাসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে পরীক্ষা চলাকালে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
কলেজ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে পূর্বের প্রশাসনিক ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তারা এক নারী প্রভাষককে মারধর করেন এবং পরে অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের ওপর হামলা চালান। একই সঙ্গে অফিস কক্ষে ভাঙচুরও করা হয়।
এ ঘটনায় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
আহত প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, “অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আমাকেও টার্গেট করা হয়েছে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত স্থানীয় নেতা আকবর আলী দাবি করেন, তারা কলেজের পূর্ববর্তী অনিয়মের হিসাব চাইতে গেলে উল্টো শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। তার ভাষ্য, “প্রথমে আমাদের ওপরই হামলা করা হয়েছিল, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে চাপ ও চাঁদার দাবি ছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন।
ঘটনার সময় কলেজটি পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশও মোতায়েন ছিল। দুর্গাপুর থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও কিছু লোক জোর করে প্রবেশ করে হামলা চালায়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এম







































