• ঢাকা
  • শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

ছবি: প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ চত্বরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ এবং ককটেল, হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হোসেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ শিবিরের সভাপতি মাহমুদ হাসান এবং সেক্রেটারি আসাদুল ইসলামসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অপরদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পাবনা জেলা শাখার সাহিত্য সম্পাদক বুরহান আলী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম নয়নকে প্রধান আসামি করে ৪০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার পৃথক দুটি মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ গেট এলাকায় উভয় সংগঠনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাসে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদী ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব অভিযোগ করে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করেছে এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান বলেন, “কলেজ ক্যাম্পাসে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ছাত্রশিবির কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে গেলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উস্কানিমূলক আচরণ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলে।”

মামলা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। আমাদের সাধারণ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে উল্টো তাদেরই আসামি করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, “কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এসএইচ 

Link copied!