ছবি: প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক এই মার্কেটটি বন্ধ থাকায় মাছ ও ফল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে ঢাকা-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা মহাসড়কের পাশে এবং ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মার্কেটে মোট ৮৬টি দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতা ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে এটি আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একাধিকবার মার্কেটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপে তা থমকে যায়। ওই ব্যক্তি পৌরসভার বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সর্বশেষ মার্কেট চালুর লক্ষ্যে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট স্থানে বসতে না পারায় প্রতিদিন তাদের মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযানে প্রায়ই তারা লোকসানের মুখে পড়েন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফুটপাতে ব্যবসা করলেও প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। তবে কারা এই অর্থ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।
মার্কেটটি চালুর দাবিতে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। পৌরসভার শীর্ষ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত দোকান বরাদ্দ দিয়ে মার্কেটটি খুলে দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তার বলেন, মার্কেটটি উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই মার্কেটটি চালু হবে। এতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, মার্কেটটি উদ্বোধনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এটি খুলে দেওয়া হবে।
এসএইচ







































